শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭ , ১৫ রজব ১৪৪২

দেশ

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল

নিউজজি ডেস্ক ২৯ এপ্রিল, ২০২০, ০২:৩১:৩৭

  • আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল

ঢাকা : আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। বাংলাদেশের উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে এক মহাপ্রলয়ংকরি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লন্ড-ভন্ড হয়ে যায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা। ওই প্রাকৃতির দুর্যোগের ২৯ বছর অতিবাহিত হলেও কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের উপকূলবাসী এখনো অরক্ষিত।

ভয়াল ২৯ এপ্রিল উপকূলবাসীর বেদনার দিবস হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মহামারী করোনা সংকট। প্রতি বছর এ দিনটি পালন উপলক্ষে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন থাকলেও এবারে কোনো কিছুই থাকছে না। স্বজনহারা মানুষগুলো বাড়িতে ফাতিহা আর দোয়া ছাড়া কিছু করতে পারছে না।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের মধ্যরাতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ দেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ১২ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। এতে ২ লাখ মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজ হন আরও ১ লাখ। ৭০ হাজার গবাদিপশু মারা যায়। ওই রাতের তা-বে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে সরকারি হিসাবে জানা যায়। তবে বেসরকারি হিসাবে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে জানান কোস্টাল জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আতা উল্লাহ খান।

গরকির ছোবলে ছেলে হারায় মাকে, মা হারান তার প্রিয় সন্তানদের, স্বামী হারান স্ত্রীকে, স্ত্রী হারান প্রিয় স্বামীকে। সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি মনে পড়লে উপকূলবাসী এখনো আঁতকে ওঠে। সে প্রলয়ংকরি ঘূর্ণিঝড়ের ২৯ বছর অতিবাহিত হলেও কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের উপকূলবাসী এখনো অরক্ষিত। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এখনো বিভিন্ন স্থানে খোলা রয়েছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। ফলে বিভিন্ন উপকূলীয় লোকালয়ে সাগরের লোনাজল এখনো প্রবেশ করছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফ বাদশা বলেন, গত ২৪ বছর ধরে তার এলাকায় ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ খোলা রয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার গোস্বামী জানান, কক্সবাজারের ৫৯৬ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের মধ্যে ৮০০ মিটার এখনো খোলা। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ১৭৩০ মিটার। তবে ১১টি পয়েন্ট দ্রুত কাজ শুরু হবে।

এ সবের সঙ্গে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। ফলে উপকূলবাসী এখনো অরক্ষিত। সেই সঙ্গে করোনা ভাইরাসের কারণে উপকূলের জেলে, লবণচাষি ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো বিপাকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী।

এদিকে দিনটি উপলক্ষে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবছর দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকলেও দেশে করোনা সংকটের কারণে এবার কোনো আয়োজন নেই। তবে মসজিদ মন্দির ও গির্জায় সীমিত আকারে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে বলে জনান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। ডিসি বলেন, সরকার জেলার উপকূল রক্ষায় বিশেষ উদযোগ নিয়েছে।

১৯৯১ সালের এ দিনে সব চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে কক্সবাজারের মহেশখালীর ধলঘাটা উপদ্বীপে। এ ইউনিয়নের সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য কামরু নাহার রুবি জানান, এখানে এমন কোনো বাড়ি বা ঘর নেই, যেখান থেকে ৫-৬ জন লোক মারা যায়নি। তাই এ দিনটি এলে এখনো প্রতিটি বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। ধলঘাটা তরুণ ছাত্র সংঘের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, ১৯৯১ সালের পর থেকে ধলঘাটা এলাকার বেড়িবাঁধ এখনো খোলা রয়েছে। কুতুবদিয়া দ্বীপের বাসিন্দা আবদুল্লাহ নয়ন বলেন, সেই ভয়াল রাতের কথা মনে পড়লে চোখ এখনো ঝাপসা হয়ে আসে।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers