রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭ , ২৩ রজব ১৪৪২

অর্থ ও বাণিজ্য

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ

নিউজজি প্রতিবেদক ২৯ এপ্রিল , ২০২০, ০০:৪৬:০৮

  • খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ

ঢাকা : করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো ঋণ খেলাপি হবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বিএবি এবং এবিবি’র নেতারা। আজ মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে করণীয় নির্ধারণে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (এবিবি) সভাপতি আলী রেজা ইফতেখারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরও ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। এসময় ব্যাংক নেতারা সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানান। ব্যাংক নেতাদের অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা, পরিচালন ব্যয় কমানোসহ অযথা ব্যয় পরিহারের নির্দেশ দেন।

করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো ঋণ খেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৯ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং পরিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে খেলাপি না দেখানোর সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি করেন। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সময়মতো এটি বিবেচনা করা হবে। 

এসময় বিএবি এবং এবিবি’র চেয়ারম্যানরা সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের প্রশংসা করেন। এবিবি সভাপতি আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। 

প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) হার এবং রেপোর হার কমানোর সিদ্ধান্ত খুবই কার্যকরী হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে গ্রাহকদের নগদ উত্তোলনের চাপ সামলানো গেছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের কারণে ডেপোজিট কমার চাপও সামলানো সম্ভব হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী ব্যাংক নেতাদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু পরামর্শ দেন। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস পরবর্তী রাস্তা খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে। তাই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমাতে হবে। অযথা অপচয় রোধ করতে হবে। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর উদাহরণ অনুসরণ করতে বলেন। এসময় তিনি ব্যাংক নেতাদের দেশে বিকল্প বিনিয়োগ তৈরিতে বন্ড মার্কেট উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দেন।

ভিডিও কনফারেন্সে এবিবি চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার প্রণোদনা প্যাকেজের অধীনে ব্যাংকগুলোকে ক্রেডিট রিস্ক গ্যারান্টি স্কিম বা ঝুকি নিরসন গ্যারান্টি স্কিম চালুর অনুরোধ করেন। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির লাইফলাইন হলো ব্যাংকিং খাত। তাই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য যা যা করণীয় দরকার তার সবই করা হবে। 

এসময় বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার অর্থমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান। পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সে যেসব আলোচনা হয়েছে তা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তা নিয়ে বিএবি এবং এবিবি চেয়ারম্যান আবারো বসবেন বলে জানান। তারা সবগুলো ব্যাংককে এসব বিষয় মেনে চলতে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ করবেন বলেও অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ব্যবসা এবং ব্যাকিং খাতকে চালু রাখতে যা যা করা প্রয়োজন বাংলাদেশ ব্যাংক সে অনুযায়ীই পলিসি তৈরি এবং দিক নির্দেশনা দেবে।

এবিবি চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে যেহেতু অর্থনীতিতে আপাতত তারল্য নিয়ে আসার আর কোনো উপায় নেই তাই ব্যাংকগুলোকেই এ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আর এতে ব্যাংকগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা খুব নাজুক হয়ে পড়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers