বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ , ৩ রমজান ১৪৪২

ফিচার

কার সাথে এত ক্রোধ

একলাছ হক এপ্রিল ২৯, ২০২০, ১৯:১৮:৫৭

  • ছবি: ফাইল

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা। একদিনে অর্জিত হয়নি। কোনো শান্তি চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়নি এ রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্র গঠনের পেছনে রয়েছে অনেক সংগ্রামের ইতিহাস। রয়েছে রক্তে রঞ্জিত হওয়ার ইতিহাস। মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর ইতিহাস। জড়িয়ে আছে দেশ-মাতৃকার জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেয়ার ইতিহাস। আমরা পেয়েছি একটি মানচিত্র। একটি স্বাধীন পতাকা।

মহামারি করোনা আমাদের কি শিক্ষা দিয়েছে জানি না। আমরাও এ মাহামারি থেকে কি শিক্ষা নিয়েছি তাও মনে হয় পরিষ্কার নয়। যেখানে মৃত্যুভয় আমাদের সবসময় তারা করে ফেরে সেখানে আমরা কি করে বিবেককে বিকিয়ে দিচ্ছি। মসজিদে যেতে পারছি না। এমনকি পবিত্র মক্কা ও মদিনায়ও কার্যক্রমে স্থবিরতা। সারা পৃথিবীর জাতি ধর্ম, বর্ণ সকলেরই এক কথা ‘ঘরে থাকো’। শত শত কিলোমিটার গতিবেগের যানবাহন এখন জনশূন্য, স্তব্ধ। যেখানে পৃথিবীর সব ব্যস্ত শহরগুলো থমকে গেছে। নেই সমুদ্র সৈকতে খোলামেলা নারীদের পদচারণা। নেই হোটেল-মোটেল পর্যটন এলাকায় মুখরতা।

এখনো মন থেকে দস্যুপনাকে সরিয়ে দিতে পারিনি। অনেকেই আবার ব্যস্ত করোনাকে পুঁজি করে নিজেদের ফায়দা লুটার কাজে। তবে তিনি বেঁচে থাকবেন কি না সেদিকে নজর নেই। মনে হয় বেঁচে থাকি বা না থাকি সবকিছু আমার চাই। আমিই হবো সেরা। অনেকের নিত্যপণ্যের কেনাকাটার ধরন দেখে মনে হয় তার পেট যেন হাতির পেট হয়ে গেছে। মনে হয় এই কেনাকাটাই দুনিয়ার বুকে শেষ কেনাকাটা।

কতিপয় উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যারা জনপ্রতিনিধির লেবাস লাগিয়ে করে যাচ্ছেন সব। আপনারা নিজেদের কি মনে করেন। ভেবেছেন আসহায় জ্ঞানহীন এক জাতির প্রতিনিধি আপনারা। না, এ জাতি বীরের জাতি। এ জাতির ইতিহাসে বীরত্বের চিত্রগাথা। বাঙালি জাতি কিছুই বোঝে না। সব বোঝে এ জাতি। সময় হলেই সব বুঝিয়ে দিবে। মনে হয় আপনারাই জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন। যেখানে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটা সেকেন্ড অজানা ভয়ে সময় পার করছেন, সেখানে আপনারা তৈরি করলেন নতুন ইতিহাস। জাতির বিশ্বাসে আঘাত করেছেন। ভেঙে দিয়েছেন তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। যে অধিকারটুকু আপনাদের নেই। নিঃসম্বল মানুষগুলো আপনাদের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু তাদের সেই দৃষ্টি আপনাদের নজরে আসে না। আপনারা করে যাচ্ছেন নিজের কাজ।

ত্রাণ চুরি, টিন চুরি নতুন কিছু নয়। এর আগেও আমরা শুনেছি। কিন্তু পার্থক্যটা শুধু সময়ের। কি করে আপনারা পারলেন অনাহারী মনুষের খাদ্যদ্রব্যগুলো নিজেদের পেটে ভরতে। যেটুকু আপনাদের পেটে জায়গা না হয় সেগুলো আবার জমা করেছেন আপনাদের নিয়ন্ত্রিত গোডাউনে। বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে। এমনকি রেখেছেন ঘরের ভেতরে মাটি খুঁড়ে। একবারও ভাবলেন না এই মাটিতেই একদিন আপনাকে শুতে হবে। আপনাদের বিছানার নিচে পাওয়া যায় ভোজ্য তেলের খনি। আহা কি বিচিত্র ইতিহাসটাই না সৃষ্টি করলেন। আপনারা কেন এত নিষ্ঠুর। কার সাথে আপনাদের এত ক্রোধ। অনাহারী মানুষের খাবারের চাল আপনাদের কেউ কেউ আবার পণ করেছেন তাদের দিবেন না। ফেলে দিয়েছেন পুকুরে। একবার অনাহারী মানুষগুলোর লাইনে এসে দাঁড়ান। দেখুন তাদের পেটের জ্বালা কত ভয়ঙ্কর।

বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আপনারা জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তার হাতকে শক্তিশালী করার প্রতিজ্ঞা করেছেন। দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় পার্যায়ের জনগণকে সহযোগিতার। কী করলেন আপনারা কতিপয় জনপ্রতিনিধি। যার জন্য আজ সারা দেশের জনপ্রতিনিধিরা প্রশ্নবিদ্ধ।

বাংলার গৌরবময় ইতিহাস মুছে দেয়ার সাধ্য কারো নেই। অনেকেই হয়ত এই অসাধু কাজটি করার চেষ্টা করেছেন। অনেকে এখনো করছেন। কতিপয় জনপ্রতিনিধিদের কার্যকলাপের কারণে সেই ইতিহাস মুছে যেতে পারে না। মুছে যাবে না। এই বাংলায় এখনো রয়েছে দেশ প্রেমের আদর্শ সৈনিকেরা। ইতিহাসে কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করলে তারা কাউকেই ছেড়ে দিবেন না। প্রতিহত করবেন শক্ত হাতে।

অনেক জনপ্রতিনিধিও আছেন যারা নিজের খাবারও বিলিয়ে দিচ্ছেন অনাহারীর মুখে। রাত-দিন এক করে ফেলছেন কাজ করতে করতে। তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংশোধন করুন। ভেবে দেখেন একদিন আপনিও থাকবেন না। থাকবে না আপনার এই অসীম ক্ষমতা। বেঁচে থাকবে শুধু আপনার কর্মকাণ্ডগুলো। সেদিন এ জাতি স্মরণে রাখবে আপনাকে।

নিউজজি/জেডকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers