শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ , ২৭ রজব ১৪৪৭

দেশ

পৃথিবীতে খুবই সিরিয়াস ১০ ভাগ মানুষ বই পড়েন, তাঁরা চিন্তাশীল হন

নিউজজি প্রতিবেদক ২৩ এপ্রিল, ২০২২, ১৭:৩৮:৪৩

3K
  • ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

ঢাকা: অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, পৃথিবীর যে কোন দেশের ১০ ভাগ লোক বই পড়ার ক্ষমতা রাখে। তবে নিজেকে প্রস্ফুটিত করে, বিকশিত করে দেশে এমন বইয়ের সংখ্যা খুবই কম। বই পড়া কঠিন কাজ। খুবই সিরিয়াস মানুষ যারা আছেন তারাই পড়েন এবং তারাই নিজেকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখেন। এমন সিরিয়াস লোক মাত্র ১০ শতাংশ হতে পারে।

শনিবার (২৩ এপ্রিল) ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইস্ফেন্দিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে এসব কথা বলেন তিনি।

সভাপতির বক্তৃতায় অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, পাঁচ হাজার বছর আগেও পৃথিবীতে বই ছিল না। তখন মানুষের মধ্যে জ্ঞানের পরিমাণ ছিল খুবই কম। লিপির উদ্ভব ও বইয়ের প্রচলন শুরু হবার পর থেকে এক প্রজন্মের জ্ঞান অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় এবং জ্ঞানের পরিধিও বাড়তে থাকে। বইয়ের মাধ্যমে পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখা যায় বা কল্পনা করা যায়। বই যাঁরা পড়েন তাঁরা চিন্তাশীল হন। বই বাঁচুক, বইয়ের সঙ্গে যাঁরা সংশ্লিষ্ট সকলেই বাঁচুক।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সেক্রেটারি জেনারেল ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের সাবেক রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক এবং বিএনসিইউ ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. সোহেল ইমাম খান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। সভাপতি হিসেবে লেখকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের এই বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট বা জ্ঞান সংরক্ষণের ইতিহাসে আসতে অনেক সময় লেগেছে। তাই লেখকদের বই সংরক্ষণে কপি রাইট করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সেক্রেটারি জেনারেল মো. সোহেল ইমাম খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে গ্রন্থের ইতিহাস তুলে ধরেন। গুগলে বই না খুঁজে তিনি মৌলিক বইপড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

বক্তব্য দেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক

বিশ্ব গ্রন্থ ও কপি রাইট দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের সাবেক রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইটদিবস সারা পৃথিবীতে ১৯৯৫ সাল থেকে পালিত হলেও আমাদের দেশে ২০০০ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। ১৯১৪ সালে এই উপমহাদেশে কপিরাইট আইন প্রণীত হয়।

বাংলাদেশে ২০০০ সালে প্রণীত কপি রাইট আইনটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুনভাবে প্রণয়নের জন্য এখন আইনমন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি কপিরাইট বিষয়ে কিছু নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ধারণা দিয়ে এ সম্পর্কিত আইনের প্রতিশ্রদ্ধাশীল হবার আহ্বান জানান।

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক বলেন, সেরা বিশজন বাঙালির কথা বললে দেখা যাবে যে তাঁরা সবাই কম-বেশি বই পড়তেন। সব সময়ই শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসবই মানুষের হৃদয়ের শুশ্রষা করে। বই যে ফর্মেই থাকুক না কেন, বই চিরকালই থাকবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। সবচেয়ে সুন্দর মানুষ সেই, যার হাতে সুন্দর বই থাকে। আগামীর বাংলাদেশ অবশ্যই মানবিক বাংলাদেশ হবে এ প্রত্যাশা করেন তিনি।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হলে অবশ্যই বই পড়তে হবে। বিশ্বের কোথায় কী বই ছাপা হচ্ছে তার খোঁজ খবর আমাদের রাখতে হবে। একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতি গড়তে হলে বই পড়ার মাধ্যমেই সম্ভব হবে বলে তিনি বলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম-পরিচালক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।

 

নিউজজি/শানু

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন