বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৮ শাওয়াল ১৪৪৭

দেশ

যেতে যেতে রেখে গেল তারা ৬ বছরের গল্প

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ১৯ মে, ২০২৫, ১৩:০৮:১১

3K
  • ছবি : নিউজজি

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগ যেন আচমকাই পরিণত হলো এক স্মৃতির প্রদর্শনীতে। স্নাতক চতুর্থ বর্ষের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ, বাংলা ৭ম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান ঘিরে গোটা বিভাগজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ৬ বছরের গল্প, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর বিচ্ছেদের হালকা কান্না।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে, যা করেন বিদায়ী ছাত্র আসিফুর রহমান। পরে গীতা পাঠ করেন প্রজ্ঞা দাস। আবেগঘন এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. কামরুল হাসান হৃদয়, যার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে আরও স্মরণীয়।

অনুষ্ঠানে একে একে মঞ্চে এসে নিজেদের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি আর আবেগ প্রকাশ করেন ফারুক, লিপা, এমরানসহ আরও অনেকে। তাদের কণ্ঠে উঠে আসে—এই ছয় বছর কেবল পাঠ নয়, ছিল জীবন শেখার এক অধ্যায়।

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সম্মানসূচক মানপত্র পাঠ করেন স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাচটির প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিটিবির সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর, প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক কোহিনূর আক্তার এবং বর্তমান বিভাগীয় প্রধান মীর মাহবুবুর রহমান।

আয়েশা সিদ্দিকা লিপা তার স্বাগত বক্তব্যে স্মৃতির জোয়ারে ভাসিয়ে নেন সবাইকে। কোহিনূর আক্তার দেন প্রেরণামূলক দিকনির্দেশনা, আর মীর মাহবুবুর রহমান বাস্তব জীবনের প্রস্তুতি ও ক্যারিয়ার গঠনের উপদেশ দেন। অধ্যাপক ফাতিহুল কাদীর শোনান বাংলা বিভাগের প্রতি তার দীর্ঘদিনের অমোচনীয় মায়ার গল্প।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে দুই প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধানকে দেয়া হয় বিদায়ী সম্মাননা স্মারক, বর্তমান বিভাগীয় প্রধানকে দেয়া হয় শুভেচ্ছা স্মারক। বিভাগকে উপহার দেয়া হয় একটি দেয়ালঘড়ি এবং বিদায়ী ৩২ জন শিক্ষার্থীকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

আবেগের পাশাপাশি ছিল সৃজনশীলতার ছোঁয়া। আব্দুল্লাহ আল নোমান আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা “আজি এ প্রভাতে রবির কর”, আর আসিফুর রহমান পরিবেশন করেন ইসলামি সংগীত “বন্ধু ভুলে যেও না কখনো”।

বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থী লিপা, তাহানি, তিথি, হৃদয়, আরেফিন ও ফারুক দেয়ালে আঁকে নূরলদীনের সারাজীবন, রূপসী বাংলা, সাম্যবাদী, পদ্মানদীর মাঝি বইয়ের প্রচ্ছদচিত্র। তাদের এই সৃজনশীলতা দেখে শিক্ষক ও অতিথিরা অভিভূত হয়ে পড়েন। বিভাগের দেয়ালজুড়ে আঁকা আল্পনা এনে দেয় এক উৎসবের আবহ।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে চলে ছবি ও ভিডিও ধারণ-যাতে এই মুহূর্তগুলো ভবিষ্যতে স্মৃতির জানালায় ফিরে দেখা যায়। প্রীতিভোজ শেষে কলেজ মাঠ, শহিদ মিনার ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে তোলা ছবিগুলো হয়তো পরবর্তী জীবনের অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে।

তারা চলে যাচ্ছে, কিন্তু রেখে যাচ্ছে একরাশ গল্প, একটি ব্যাচ, একটি সময়, একটি জীবন। হয়তো তারা নতুন পথ দেখছে, কিন্তু পুরোনো ক্লাসরুমের আলো-ছায়ায় সেই গল্পগুলো চিরকাল থেকেই যাবে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers