বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ , ২ মুহররম ১৪৪৮

দেশ

সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপি

কক্সবাজার প্রতিনিধি ১৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১৯:২৯:১৭

112
  • সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে ডিসিকে স্মারকলিপি

কক্সবাজার: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের বালিয়াড়িতে অবৈধভাবে নির্মিত শত শত দোকানপাট, ঝুপড়িসহ সব ধরনের স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদের দাবিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আ. মান্নানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশবাদী সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস)। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ কার্যক্রমে প্রশাসনের 'নীরবতা' সৈকতের পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার ভিত্তিক এ পরিবেশবাদী সংস্থার প্রতিনিধিরা ডিসি কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন। স্মারকলিপিতে সৈকতের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংস্থা ‘ইয়েস’ -এর দেওয়া স্মারকলিপিতে জানানো হয়, সম্প্রতি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এলাকায় শত শত নতুন দোকান বসানো হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্থাপনাগুলো সৈকতের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

স্মারকলিপির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো— আইন ও বিধি-বর্হিভূতভাবে এসব স্থাপনার মধ্যে থাকা বেশকিছু দোকানের লাইসেন্স খোদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেই দেয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ‘ইয়েস’ এর প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন: “সৈকতের বালিয়াড়ি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA)। সেখানে লাইসেন্স দিয়ে দোকান বসানো সরাসরি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের লঙ্ঘন। যখন মন্ত্রণালয় উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়, তখন জেলা প্রশাসন লাইসেন্স বিতরণ করে কী বার্তা দিতে চাইছে? আমরা চাই, জেলা প্রশাসন দ্রুত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে লাইসেন্স বাতিল করে জনস্বার্থে সমস্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুক।”

গত ২৩ সেপ্টেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে সরাসরি নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসন কর্তৃক সৈকতে ব্যবসা করতে দেওয়া সব লাইসেন্স বাতিলেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। শুধু সরকারি নির্দেশনাই নয়, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও বিভিন্ন সময়ে সৈকতে স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে ‘ইয়েস’ এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রমিজ উদ্দিন, চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইসলাম মাহমুদ ও যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুহেনা মোস্তফা প্রমুখ।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান উপস্থিত পরিবেশবাদী প্রতিনিধিদেরকে এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিতর্কিত লাইসেন্স বাতিলের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

পরিবেশবাদীরা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত গঠনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers