বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ , ২ রমজান ১৪৪৭

দেশ

সামাজিক বনায়নের গাছ উধাও, নির্বিকার বন কর্মকর্তা

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩:১৯:৩৪

204
  • সামাজিক বনায়নের গাছ উধাও, নির্বিকার বন কর্মকর্তা

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে রাতের আঁধারে উধাও হচ্ছে সামাজিক বনায়নের গাছ। কোথায়, কীভাবে রাতারাতি গাছগুলো গায়েব হয়ে যাচ্ছে জানেন না উপজেলা বন কর্মকর্তা। অন্যদিকে উপজেলা বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়োজিত বনরক্ষী যেন গাছ বিক্রির ঠিকাদার হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

সূত্র বলছে, উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের পঞ্চবটি এলাকার ঢাকা-খুলনা হাইওয়ে রোডের পাশের বেশকীছু গাছ গায়েব হয়ে গেছে। তার মধ্যে পঞ্চবটি টু মাঝিগাতি বাস স্যান্ড থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ টি বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে গেছে স্থানীয় মো.এরসাদ নামের এক বেক্তি। আর এই কাজে সহযোগিতা করেছেন কাশিয়ানীর বনরক্ষী মো.আক্তার হোসেন। এই বনরক্ষী মো.আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে বন বিভাগের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা মেলে স্থানীয়দের বক্তব্যে। তারা জানান, কয়েক দিন পূর্বেও গেড়াখোলা ব্রিজ সংলগ্ন পঞ্চবটি এলাকা থেকে রাতের অন্ধকারে মো.এরসাদ সামাজিক বনায়নের গাছ কাটতে গিয়ে এক বেক্তির গছ চাপায় মৃত্যু হয়। তারপরেও বন্ধ হয়নি তাঁর সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা। মাঝিগাতি বাস স্যান্ড থেকে গেড়াখোলা অভিমূখী ৩০০ গজ সামনেই পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি কেটে রাখা এ্যাকাশি গাছ। যার আনুমানিক বাজার মূল ১২ হাজার টাকা। আরও একটু সামনে এগিয়ে রাস্তার পশ্চিম পাশে বিটিআরসি ক্যাবল স্ংযুক্ত হোলের পাশ থেকেই দেখা যায় দুটি সিরিজ গাছে কেটে গাছের গুড়ি পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা। পাতা সরিয়ে গাছের গুড়ি দেখে ধারণা করা হচ্ছে গাছের বাজার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আরও এটু সামনে গিয়ে দেখা যায় জোনাসুর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র KA2 বিদ্যুৎ এর খুটিরা কাছে আরেকটি বড় ইপিল ইপিল গাছের গুড়ি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভ্যান চালক জানায়, রাস্তার পাশে বসতি না থাকায় রাতের আঁধারে সামাজিক বনায়নের আওতায়ধীন গাছগুলি কেটে নিচ্ছে একটি দুষ্ট চক্র। তার মধ্যে উপজেলাধীন মহেশপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্ধী গ্রামের মো. এরসাদ ও তার ছেলেসহ ৫ জনের দল অন্যতম। হাইওয়ে রাস্তার উপর থেকে ঝুলন্ত ডাল-পালা কাটে রাতের আধারে ডালা সরিয়ে নেওয়া সময় একবার পুলিশের হাতে আটক হয় এরসাদের লোক। কয়েকবার হাতেনাতে ধরা পড়লেও কোন বিচার হয়নি তাদের। এখনও একেক করে রাতের আঁধারে উধাও হয়ে যাচ্ছে গাছগুলো।

আরও জানাজায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণ জন্য সড়কে ঝুলে থাকা ডাল-পালা বা ঝুঁকিপূর্ন গাছ কাটার কন্টাক্ট নেন ওই এরসাদ। সেখান থেকে উপজেলা বনরক্ষী মো. আক্তার হোসেনের সাথে এরসাদের ভালো সম্পর্ক। তবে কন্টাক্ট বা টেন্ডার শেষ হয়ে গেলেও এরসাদের গাছ কাটা শেষ হয়নি। এখনও রাতের আঁধারে একেক করে মূল্যবান গাছগুলো কেটে রাতারাতি গায়েব করে ফেলছে।

এদিকে সামাজিক বনায়নের গাছ উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়ে উপকারভোগী কোনো দায়িত্ব বা রক্ষণ কমিটি আছে কী, এবিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। তবে জানাজায়, উপজেলা বনরক্ষী মো.আক্তার হোসেন গাছ প্রতি এরসাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে পেয়ে থাকেন।

এরশাদের সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করলে, এখনও গাছ কাটার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ দেখার জন্য বনরক্ষী আছে। আর সামাজিক বনায়নের গাছ টেন্ডার ছাড়া কাটা যায় না। বন বিভাগের কর্মকর্তা আক্তার সাহেব আমাকে ভালো করে চিনেন। আমার বিরুদ্ধে বলা কথা গুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কোনো গাছ কাটি নাই। আগে যা কেটেছি আক্তার হোসেনের অনুমতিতেই কেটেছি।

তবে উপজেলা বনরক্ষী বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের প্রশ্নে আক্তার হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা। বন কর্মকর্তার সাথে একজন গাছ চোরের ভালো সর্ম্পক কি করে হয়। এরসাদের গাছ চুরির অভিযোগ আগেও পেয়েছি। হাতেনাতে ধরাতে পারলে ভালো হয়। সামাজিক বনায়নের গাছ চুরির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে কী, এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন