রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৩ জিলকদ ১৪৪৭

দেশ

‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক নয়’

নিউজজি ডেস্ক ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:১৯:৪৯

35
  • ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক নয়’

ঢাকা : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ভিন্নতা যেন কখনো শত্রুতায় রূপ না নেয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ও বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও এ সময় বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সাথে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে অনীহা দেখানোকে তিনি হীনমন্যতার পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে চলা সময়ের দাবি।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তা যেন শত্রুতায় পরিণত না হয় এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের তিনি জাতির গর্ব উল্লেখ করে দেশ ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসংখ্য শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছর পর দেশ অনেক দূর এগিয়েছে, তবে এখনো অনেক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির মধ্য দিয়েই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অতীতে শিক্ষা খাতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়নের কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন খাতে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে উপস্থাপিত দলীয় ইশতেহার ও ‘জুলাই সনদ’ এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের সমর্থন নিয়েই এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এখনো মূল্য সমন্বয় করেনি; বরং ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

সবশেষ স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের আবারও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের এইসব অর্জন একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক স্বীকৃতি পাবে।

নিউজজি/এসএম/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers