সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২২ জিলহজ ১৪৪৭

দেশ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা

ববি প্রতিনিধি ১১ মে, ২০২৬, ১৬:১৬:৫৬

111
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা

ববি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গভীর প্রশাসনিক সংকট ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শিক্ষকদের নির্দেশনায় সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা যায়। সকাল ৯টার দিকে শিক্ষক সমাজ প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তারা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝোলানো হয়।

তালা দেয়ার সময় রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরাও শিক্ষকদের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তালা লাগানোর কাজে অংশ নেন।

মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার প্রতিবাদে শিক্ষকদের নির্দেশনায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, প্রশাসনিক অদক্ষতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও একাডেমিক জটিলতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। বারবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় তারা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ধীমান কুমার রায় বলেন, আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তাকে আর কোনো প্রশাসনিক সহযোগিতা দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ থেকে তিনজন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। বোর্ডসংক্রান্ত বিষয়গুলো ছয় মাস ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়াবহ শিক্ষক সংকট চলছে। একজন শিক্ষককে কয়েকজনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা ও গবেষণার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকট নিরসন না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে।

সেশনজটের আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যাহত হওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হতে পারে। তবে সাধারণ শিক্ষকরা পরে অতিরিক্ত ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে তা পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। দীর্ঘমেয়াদি সংকটের চেয়ে সাময়িক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠাই এখন জরুরি।

অন্যদিকে শিক্ষকদের এই কর্মসূচিকে ‘আইনবিরোধী’আখ্যা দিয়েছেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। তিনি বলেন, শিক্ষকরা চাইলে নিজেদের কর্মবিরতি পালন করতে পারেন, কিন্তু প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করার অধিকার তাদের নেই। অন্যের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান এই সংকটে উদ্বেগ বেড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও। প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি দাপ্তরিক কাজ, একাডেমিক সিদ্ধান্ত, ফল প্রকাশ ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুত সংকট নিরসন না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers