সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২২ জিলহজ ১৪৪৭

দেশ

খুমেক হাসপাতালে ১৪ বেডের হাম কর্নারে যুদ্ধ

খুলনা প্রতিনিধি ১৭ মে, ২০২৬, ২০:৪০:২০

84
  • খুমেক হাসপাতালে ১৪ বেডের হাম কর্নারে যুদ্ধ

খুলনা: খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের হাম কর্নারে ঢুকলেই দেখা যায় সংকটের এক বাস্তব চিত্র। ছোট্ট একটি ওয়ার্ড, মাত্র ১৪টি বেড। অথচ সেই সীমিত জায়গার ভেতরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫২ জন রোগী। তাদের সঙ্গে আছেন আরও শতাধিক স্বজন। প্রচণ্ড গরম, অতিরিক্ত ভিড় এবং অবিরাম রোগীর চাপ সব মিলিয়ে কার্যত নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে সরেজমিনে হাম কর্নারে দেখা যায়, একেকটি বেড ঘিরে একাধিক শিশু রোগী। কোথাও বেডে দুই থেকে তিনজন শিশু পাশাপাশি চিকিৎসা নিচ্ছে, কোথাও আবার মেঝেতে বসেই চলছে স্যালাইন। অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন অভিভাবকরা। নার্স ও ওয়ার্ডবয়দেরও একসঙ্গে একাধিক রোগীর সেবা দিতে দেখা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪৩৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৮০ জন। নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৭ জন এবং মারা গেছেন চারজন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন রোগী।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীর চাপ দিন দিন বাড়লেও সে অনুযায়ী শয্যা ও অবকাঠামো বাড়েনি। ফলে একই জায়গায় একাধিক রোগী রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

একজন নার্স জানান, একই সময়ে একাধিক শিশুর স্যালাইন, ওষুধ দেওয়া এবং পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে থেমে থাকার সুযোগ নেই।

হাম কর্নারের বাইরে করিডোরজুড়েও রোগীর স্বজনদের ভিড়। কেউ হাতে পাখা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ আবার জ্বরাক্রান্ত শিশুর শরীরে পানি ঢেলে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। গরম ও ভিড়ে অনেকের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে রোগীর স্বজনরা বলছেন, চিকিৎসা পাওয়া গেলেও পরিবেশ অত্যন্ত অস্বস্তিকর। জায়গার অভাবে অনেক সময় রোগীকে ঠিকভাবে রাখা যাচ্ছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ কমাতে দ্রুত সচেতনতা ও প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণজনিত এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না আনলে শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি শয্যা ও পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers