মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২৩ জিলহজ ১৪৪৭

দেশ

সলঙ্গা বাজারে মধুমাসে বাড়ছে লিচুর সরবরাহ

সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ১৮ মে, ২০২৬, ২০:১৩:৫৬

121
  • সলঙ্গা বাজারে মধুমাসে বাড়ছে লিচুর সরবরাহ

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা বাজারে বাড়ছে লিচুর সরবরাহ। জ্যৈষ্ঠের তাপদাহে জনজীবন যখন হাঁসফাঁস,ঠিক তখনই মধুমাসের রসালো ফল লিচু এনে দিচ্ছে স্বস্তির স্বাদ।

সলঙ্গার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন চোখে পড়ছে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা লালচে লিচু। বাজার জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি ঘ্রাণ আর ক্রেতাদের কোলাহল। গরমের ক্লান্তি ভুলে মানুষ ভিড় করছেন প্রিয় এই মৌসুমি ফল কিনতে। সলঙ্গা অঞ্চলের গ্রামীণ মেলা থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জ রোড,পাঁচলিয়া বাজার,ঘুড়কা বেলতলা বাজার,ভুইয়াগাতী বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমে উঠছে লিচুর বেচাকেনা। বাঁশের ঝুড়ি, ডালা ও ভ্যানে সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের লিচু। কোথাও লিচুর লাল আভা, কোথাও আবার কাঁচা-লাল রঙের মিশেলে তৈরি হয়েছে মধুমাসের আলাদা এক আবহ। স্বাদ ও আকার ভেদে প্রতি শ’ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

সলঙ্গা বাজারের ফল ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, “গত বছরের চেয়ে এবার লিচুর সরবরাহ কিছুটা বেশি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। তবে পরিবহন খরচ বাড়ায় বাজারে দাম একটু বেশি। তারপরও ক্রেতার আগ্রহ কম নেই।”বিকেলের দিকে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়তে দেখা যায়। পরিবারের ছোট সদস্যদের আবদার মেটাতে অনেকেই কিনছেন লিচু। বাজারে লিচু কিনতে আসা গৃহিণী সুমা খাতুন বলেন, “মৌসুমি ফলের মধ্যে লিচু বাচ্চাদের সবচেয়ে পছন্দ। দাম বেশি হলেও মৌসুমে কিছু না কিছু কিনতেই হয়। গরমে ঠান্ডা লিচু খেতে খুব ভালো লাগে।” শুধু বাইরের জেলা থেকে আসা লিচুই নয়,সলঙ্গা অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামেও এবার অনেক গাছে ভালো ফলন হয়েছে। বাড়ির আঙিনা ও ছোট বাগানের গাছে থোকায় থোকায় লিচু ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত লিচু স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। এতে বাড়তি আয়ও হচ্ছে অনেক পরিবারের।

মোস্তফা স্কুলের পরিচালক মোস্তফা জামান বলেন, চাহিদা থাকায় লিচুর বাজারে রাসায়নিক ব্যবহারের শঙ্কাও রয়েছে। সচেতন ক্রেতাদের অভিযোগ, অধিক লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অপরিপক্ব লিচু দ্রুত পাকাতে কেমিক্যাল ব্যবহার করেন। এতে ফলের স্বাদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপদ ফল উৎপাদন ও বাজারজাত করণে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজার তদারকির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমের মধ্যেও লাল টুকটুকে লিচুর সমারোহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাজার গুলো, আর মৌসুমি এই ফল ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের মতো পরিবেশ।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers