মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২৩ জিলহজ ১৪৪৭

দেশ

কুরবানিকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালের খামারিরা

বরিশাল প্রতিনিধি ১৮ মে, ২০২৬, ২০:৫২:৪৩

176
  • কুরবানিকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালের খামারিরা

বরিশাল: দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই বরিশাল বিভাগের হাজার হাজার খামারির। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কুরবানির পশুর বাড়তি পরিচর্যা। তবে এবারের চিত্রটা একটু ভিন্ন। জ্বালানি তেল ও গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পশুর উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও, ক্রেতাদের দারুণ সাড়ায় খামারিদের মুখে চওড়া হাসি। খামারিদের প্রত্যাশা, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভিনদেশি গরু না আসলে এবার কুরবানির পুরো বাজার থাকবে দেশি পশুর দখলে।

বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিভাগের ৬টি জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার ১৫ জন খামারি কুরবানির জন্য ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি পশু প্রস্তুত করেছেন। বিভাগের ভেতরের চাহিদা মিটিয়েও এবার প্রায় ৬৭ হাজার ৬৬২টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

কুরবানিকে লক্ষ্য করে বছরজুড়েই বিভিন্ন জাতের গরু লালন-পালন করেন এখানকার খামারিরা। এবার খামারগুলোতে দেশি গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, দেশাল, আরসিসি, নেপাল, ফ্রিজিয়ান, অস্ট্রেলিয়ান ও পাকিস্তানি শাহিওয়াল জাতের গরুর ব্যাপক সমাহার দেখা গেছে। শেষ সময়ে এসে বিক্রিযোগ্য এই পশুগুলোর বাড়তি যত্ন নেয়া হচ্ছে খামারগুলোতে।

ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটের কাদা, জটলা আর হাসিল (খাজনা) নিয়ে টানাপোড়েন এড়াতে আধুনিক ক্রেতারা এখন সরাসরি ছুটছেন এগ্রো ফার্মগুলোতে। ডিজিটাল স্কেলে জীবন্ত গরুর ওজন (লাইভ ওয়েট) মেপে পশু কেনার এই আধুনিক সংস্কৃতি বরিশালে এবার ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

হাটে না গিয়ে পরিবার নিয়ে খামারে গরু কিনতে আসা ক্রেতা রবিন বলেন, ছোটবেলা থেকে হাটে গিয়ে গরু কেনার একটা রোমাঞ্চ ছিল। কিন্তু এখন হাটে গিয়ে স্টেরয়েড মুক্ত সুস্থ গরু পাবো কি না, তা নিয়ে মনে সংশয় থাকে। তাই নিশ্চিন্তে কোরবানি দিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সরাসরি খামারে চলে এলাম।

আসিফ নামের আরেক ক্রেতার ভাষ্য, খামারে কোনো দালের খপ্পরে পড়তে হয় না, খাজনা নিয়ে তর্কের ঝামেলা নেই। লাইভ ওয়েটে দাম একটু বেশি হলেও সুস্থ ও রোগমুক্ত পশু পাচ্ছি, এটাই বড় শান্তি।

বরিশালের এমইপি এগ্রোর ইনচার্জ রাফিউর রহমান অমি জানান, কুরবানিকে সামনে রেখে তাদের খামারে ২৫০টির বেশি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০ কেজির নিচের গরুর দাম কেজিপ্রতি ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০ থেকে ৩০০ কেজি পর্যন্ত ৫৩০ টাকা, ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি পর্যন্ত ৫৪০ টাকা এবং ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত গরুর দাম কেজিপ্রতি ৫৬০ টাকা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। গো-খাদ্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তারপরও ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাচ্ছি। মানুষ এখন হাটের চেয়ে খামারে বেশি আস্থা রাখছে, কারণ এখানে রোগাক্রান্ত পশুর ঝুঁকি কম।

খামারিদের আশা, ভারতীয় গরু সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ না করলে এবারের কোরবানির বাজার পুরোপুরি স্থানীয় খামারিদের দখলেই থাকবে। এতে দেশীয় খামার শিল্প আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে কুরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাঠে কাজ করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। বিভাগজুড়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে বসবে ৪০১টি পশুর হাট। হাট ও খামারে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১১৯টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম।

বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহফুজুল হক বলেন, গরু পরিবহণে নৌ ও সড়কপথে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো খামারে খুরা বা লাম্পি রোগে আক্রান্ত পশুর খবর পাওয়া যায়নি। তাই কোরবানির পশু নিয়ে সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এবার বিভাগের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers