বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ , ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেশ

টানা বৃষ্টিতে খুলনার কাঁচাবাজারে আগুন

খুলনা প্রতিনিধি ১১ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৩৯:৩৫

73
  • ছবি : নিউজজি

খুলনা: গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুলনার কাঁচাবাজারে। বাজারে কমেছে বিভিন্ন সবজির সরবরাহ, আর সেই সুযোগে বেড়েছে দাম। মানভেদে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও কর্ক মুরগির দামও। তবে মাছ ও গরুর মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে স্বস্তি পাচ্ছে না সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকেই খুলনায় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও নগরীর সন্ধ্যা বাজার, মিস্ত্রীপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ছিল ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে মানুষের ভিড় থাকলেও দাম শুনে অনেককেই হতাশ হতে দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্ষাকাল হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের শাকের সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকলেও অন্যান্য সবজির দাম বেড়েছে। লাল শাক বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, ডাটাশাক ৪০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, ভেন্ডি ৫০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, কুশি ৫০ টাকা, ঝাল (কাঁচামরিচ) ১৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিহালি কলা বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

মিস্ত্রীপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, গত ৭ দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে বাজারে সবজির কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে কিছু সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দামও কমে আসবে।

আরেক ব্যবসায়ী শহীদুল বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এমনটা হয়। বৃষ্টি বেশি হলে সরবরাহ কমে যায়, তাই দামও বেড়ে যায়।

সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান লিটন জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত মাল আসছে না। পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিভিন্ন ফার্ম থেকে পর্যাপ্ত মুরগি সরবরাহ না হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ী হুসাইন জানান, গত ৭ দিন ধরে বিভিন্ন ফার্ম থেকে পর্যাপ্ত মুরগি আসছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ে।

বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, লেয়ার ৩৬০ টাকা, কর্ক ২৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, মাছের বাজারে তেমন বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে চিংড়ি মাছ কেজিপ্রতি ৭০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ টাকা, পারশে ৭০০ টাকা, রুই মাছের মানভেদে ২৮০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং ইলিশ মাছ আকারভেদে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়।

তবে বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দামে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

মির্জাপুর রোডের বাসিন্দা মৃন্ময় সাহা বলেন, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যবসায়ীরা। আসল কারণ কেউ খোঁজ নেয় না। সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা কেউ ভাবছে না।

তিনি বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের মতে, টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনে সবজি ও পোলট্রিপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই বাজার তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers