বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৭ সফর ১৪৪৮

দেশ

বদলগাছীতে লিজ ছাড়াই খাস পুকুরে মাছ চাষের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি ২১ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৫১:৪৯

70
  • ছবি : নিউজজি

নওগাঁ: বদলগাছী উপজেলার সোহাসা মৌজার একটি সরকারি খাস পুকুর লিজ ছাড়াই দখলে রেখে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে পুকুরটির নামে ৯৩ হাজার টাকা গ্রহণ করা হলেও তার কোনো সরকারি রশিদ দেয়া হয়নি এবং অর্থটি সরকারি কোষাগারেও জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি সরকারি রাজস্ব আদায়, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোহাসা মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ১৩৮২ নম্বর দাগের ১ একর ৬৩ শতাংশ আয়তনের সরকারি খাস পুকুরটি এখনো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে লিজ দেয়া হয়নি। সরকারি বিধি অনুযায়ী, লিজ ছাড়া কোনো ব্যক্তি সরকারি খাস পুকুর ভোগদখল বা ব্যবহার করতে পারেন না। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রদল ও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি দখলে রেখে মাছ চাষ করছেন।

অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন- বদলগাছী ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিল হোসেন এবং সোহাসা গ্রামের সাফিন, হাসিম, নুরুজ্জামান (ধলু), রনি ও আরও কয়েকজন।

ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পুকুরটি খাস আদায়ের আওতায় আনতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে নুরুজ্জামান (ধলু) বলেন, পুকুরটির লিজ না থাকায় আমরা কয়েকজন ছাত্রদলের কর্মী এক বছরের জন্য খাস আদায়ের উদ্দেশ্যে ৯৩ হাজার টাকা ভূমি অফিসের তৎকালীন নাজির আফরিন জাহানের কাছে জমা দিয়েছি। টাকা দেয়ার পর থেকেই আমরা পুকুরে মাছ চাষ করছি। কিন্তু আমাদের কোনো সরকারি রশিদ দেয়া হয়নি।

এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত অন্যদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বদলগাছী উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক নাজির আফরিন জাহান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমি টাকা নিয়েছিলাম। তবে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। বদলি হওয়ার সময় আমি অফিসে ওই টাকা বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। তবে কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি টাকা নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো নাম প্রকাশ করেনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি খাস পুকুরের নামে কীভাবে রশিদ ছাড়া ৯৩ হাজার টাকা নেয়া হলো, সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হলো না কেন এবং বৈধ লিজ ছাড়াই কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, খাস পুকুর ইজারা বা খাস আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি চালান ও রশিদ ছাড়া কোনো অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে রশিদবিহীন অর্থ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সরকারি আর্থিক বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দীন বলেন, পুকুরটি কারও নামে লিজ দেওয়া হয়নি। লিজ ছাড়া সরকারি খাস পুকুরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে মাছ চাষ করতে পারেন না। টাকা নেয়ার বিষয়ে কেউ দাবি করলে তাকে রশিদ দেখাতে হবে। পুকুরটির সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তহসিলদারের। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers