শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ , ৪ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেশ

১৬ বছর পর এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলীর যাবজ্জীবন

বরিশাল প্রতিনিধি ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৫৬:০৪

102
  • ১৬ বছর পর এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলীর যাবজ্জীবন

বরিশাল: শালির সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন।

একই রায়ে হত্যাকাণ্ডে সহায়তার প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই বিচারকের নির্দেশে আসামিদের পুলিশ পাহারায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা এবং ঘটনার সময় তিনি বরিশাল এলজিইডিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের সঙ্গে তার শ্যালিকা রুমা আক্তারের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জহিরুলের স্ত্রী নাজমা জহির শোভা জেনে ফেললে পরিবারে তুমুল বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই জের ধরে ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী শোভাকে বরিশালের সদর রোডে অবস্থিত ‘হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনাল’-এর ৫ তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান জহিরুল। সেখানে ধারালো ছুরি দিয়ে গলার নালি কেটে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন তিনি।

ঘটনার দিনই নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম ও হোটেলের তৎকালীন ম্যানেজার আবদুল মালেককে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন জহিরুল।

মামলার ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় হোটেলে নিয়মনীতি না মেনে রুম বরাদ্দ দেয়া ও হত্যাকাণ্ডের পর তথ্য গোপনের অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় হোটেল ম্যানেজারকেও সাজা দেয়া হয়।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু ও বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পরকীয়ায় বাধা দেয়াতেই স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে হত্যা করেছিলেন এলজিইডির ওই প্রকৌশলী। দীর্ঘ ১৬ বছর পর হলেও রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে বাদীপক্ষ পূর্ণ সন্তুষ্ট। 

নিউজজি/নাসি 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers