বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ , ৩ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

দেশ

‘কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস নয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সংস্কার চাই’

নিউজজি ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:০০:৫০

707
  • ‘কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস নয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সংস্কার চাই’

ঢাকা: র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনকে কেবল বাহিনীর নাম ও কাঠামো পরিবর্তন হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী।

তার দাবি, র‌্যাবের জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার যদি নতুন নামে এসআরবিতে বহাল থাকে, তাহলে সেটি সংস্কার নয়; ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস।

এক বিবৃতিতে শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে আতঙ্কের উৎসে পরিণত হলে সেই ক্ষমতা তার নৈতিক ভিত্তি হারায়।

র‌্যাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন, বেআইনি আটক ও রাজনৈতিক নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ এই বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ জানিয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শহীদুল্লাহ ফরায়জীর ভাষায়, ‘রক্তের সাগরে ভাসমান এই প্রজাতন্ত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে, প্রতিরক্ষা বাহিনী থাকবে, গোয়েন্দা সংস্থা থাকবে—কিন্তু কোনো জল্লাদ, ঘাতক বা কসাই বাহিনী থাকতে পারে না।’

তবে ‘কসাই বাহিনী’ বলতে কোনো বাহিনীর সব সদস্যকে বোঝানো হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এমন একটি অমানবিক রূপকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে আইন তার নৈতিক ভিত্তি হারায়, ক্ষমতা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে উঠে যায় এবং নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতার ওপর সহিংসতা প্রয়োগ স্বাভাবিক হয়ে পড়ে।

এসআরবি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন বাহিনীর হাতে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দ করার ক্ষমতা এবং নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদের কক্ষ রাখার বিধান থাকলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আয়নাঘর ও বন্দিশালার অভিজ্ঞতার পর নাগরিকের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা প্রয়োজন।

সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে মত দেন তিনি। তবে এ জন্য নতুন কোনো জবাবদিহিহীন বিশেষ বাহিনী গঠনের পরিবর্তে পুলিশের বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দেন। উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, তদন্ত সক্ষমতা এবং বেসামরিক ও বিচারিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়মিত ব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন শহীদুল্লাহ ফরায়জী। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল দায়িত্ব সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা। অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগে অতিরিক্তভাবে তাদের ব্যবহার করা হলে নাগরিককে শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে এবং বাহিনীর পেশাগত নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রেও স্বাধীন ব্যবস্থা চেয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ সংশোধন করে গুমের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে দিতে হবে। একই সঙ্গে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রেপ্তার, আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ নথিবদ্ধ করা, গোপন স্থানে আটকের সুযোগ বন্ধ করা এবং সব আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর বিচারিক, সংসদীয় ও বেসামরিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

বিবৃতিতে শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা কোনো বাহিনীর নাম পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণ রাষ্ট্রের চরিত্রের পরিবর্তন, ক্ষমতার জবাবদিহি এবং নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও মর্যাদার নিশ্চয়তা চেয়েছে।

‘আমরা কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস নয়—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন চাই। গুম-খুনের নতুন বন্দোবস্ত নয়—জীবন, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা চাই’—বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers