বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ , ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

দেশ

কৃষক বাবার সন্তান রনি বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে, মেধাক্রম ১০৭

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:১৬:১৫

50
  • কৃষক বাবার সন্তান রনি বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে, মেধাক্রম ১০৭

সিরাজগঞ্জ: কৃষক বাবার সন্তান মো. রনি আহমেদ রাসেল ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঝাপড়া কাজিপুর গ্রামের এই তরুণ বিসিএসে ১০৭তম মেধাক্রম অর্জন করেছেন। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা রনির এ সাফল্যে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

রনির বাবা মো. ফজলুল হক একজন কৃষক। কৃষিকাজ করে তিনি সংসার চালান। মা মোছা. আজমিয়ারা বেগম। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তাঁরা। বাবা-মায়ের ত্যাগ, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অধ্যবসায় রনিকে এ সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছে।

রনি ২০১৫ সালে ঝাপড়া কাজিপুর আবদুল মান্নান উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে একই বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ থেকে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগ থেকে মাস্টার্স ইন মেডিসিন ডিগ্রি নেন।

পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনেও এগিয়ে যান রনি। বর্তমানে তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার হাটিল শাখায় সোনালী ব্যাংক পিএলসির অফিসার (জেনারেল) হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসির অফিসার (ক্যাশ) পদেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

নিজের সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে রনি আহমেদ রাসেল বলেন, এই অর্জনের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, পরিবারের সহযোগিতা, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাবা-মা আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রনি বলেন, ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। ভবিষ্যতে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মানুষের সেবা করতে চাই।

ছেলের সাফল্যে আনন্দিত বাবা মো. ফজলুল হক বলেন, কৃষিকাজ করে কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছি। ছেলে আজ বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

মা মোছা. আজমিয়ারা বেগম বলেন, ছেলের পড়াশোনার জন্য আমরা অনেক কষ্ট করেছি। তার এই সাফল্যে আমাদের সব কষ্ট সার্থক হয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন এবং মানুষের সেবা করার তৌফিক দেন।

রনির এই অর্জনে আনন্দিত তাঁর শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁর এ সাফল্য এলাকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers