বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭ , ১৯ রজব ১৪৪২

দেশ

২১ আগস্ট মঞ্চে গ্রেনেড ছুড়েছিল ইকবাল : র‌্যাব ডিজি

খাজা মেহেদি শিকদার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:৪৬:১২

  • ছবি : নিউজজি

ঢাকা: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইকবাল মঞ্চের দিকে গ্রেড ছুড়েছিল বলে জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি)চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইকবাল গ্রেনেড হামলার পর সে এনালগ পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশের বাইরে চলে যায়। র‌্যাব ডিজি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি গ্রেনেড হামলার আসামি ইকবাল ছাত্রদলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিল পরবর্তীতে সে জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করেন।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালে একুশে গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশের জন্য একটি কলঙ্কিত ঘটনা এই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে র‌্যাব বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

এর আগে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইকবালকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। রাজধানীর দিয়াবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান র‌্যাব ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, একুশে গ্রেনেড হামলা একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এ হামলা করেছিল ঘাতকেরা। আলোচিত এ গ্রেট হামলায় শাহাদাত বরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ দলের অনেক নেতাকর্মী। সে হামলার শিকার হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই এখনো সেই দুঃসহ এবং বিভীষিকাময় স্মৃতি বয়ে বেড়ায়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত গ্রেনেড হামলার আসামি জানায় ১৯৯৪ ঝিনাইদহে সালে সে কেসি কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রদলের নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধি ছিল। ১৯৯৫-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে এসে ইকবাল আইএসডি ফোন ও অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমরা জানতে পারি জঙ্গি ইকবাল সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে বিরোধ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। ২০০১ সালে তার চিন্তাচেতনার পরিবর্তন আসে। সে এলাকার একজনের মাধ্যমে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজিবি) জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে মুফতি হান্নান ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের খুব কাছে চলে যায়। সেখান থেকে সে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে মুফতি হান্নানের নির্দেশে ঢাকায় চলে আসে এবং গোপন আস্তানায় অবস্থান করতে থাকে। এরপর মুফতি হান্নানের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সম্পর্কে সে জানায় মুফতি হান্নানের নির্দেশ একুশে গ্রেনেড হামলা চালায়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আহত এবং নিহত হন। হামলার পর সে নিজ এলাকায় চলে যায়। এরপর নিজেকে আত্মগোপন করে রাখে। তৎকালীন মুফতি হান্নানও অন্যদের সহায়তায় এনালগ পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশের বাইরে চলে যায়।

র‌্যাব ডিজি বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী র‌্যাব জঙ্গি ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে। আত্মগোপনে থাকায় তখন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ইকবাল জীবন বাঁচাতে কখনো নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, রিকশাচালক, আবার কখনো মেকানিক ইত্যাদি কাজ করেছে। নিজেকে প্রশাসনের হাত থেকে রক্ষার জন্য নিজের নাম কয়েকবার পরিবর্তন করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ছদ্মবেশে চলাফেরা করেছে। ২০০৮ সালে সে দেশ ত্যাগ করে। এরপর প্রবাসে আত্মগোপনে থাকার অপরাধে ২০২০ সালের দিকে দেশে চলে আসতে বাধ্য হয়। দেশে এসে নাম পরিবর্তন করে তার নাম রাখে সেলিম, জাহাঙ্গীর, আবার কখনো ইকবাল, এভাবে বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, আমরা সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে ও আমাদের র‌্যাবের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ইকবালের অবস্থান। এরপর আমাদের র‌্যাবের বিশেষ এক অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।

আহত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকশত নেতাকর্মী। তাদের অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছেন।

নিউজজি/জেডকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers