বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১, ২২ বৈশাখ ১৪২৮ , ২৪ রমজান ১৪৪২

দেশ

ইবাদতের উপযোগী স্থানে রাখতে মামুনুলের আবেদন

নিউজজি ডেস্ক ১৯ এপ্রিল, ২০২১, ১৫:৫৭:০৪

  • ইবাদতের উপযোগী স্থানে রাখতে মামুনুলের আবেদন

ঢাকা: হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সেক্রেটারি মাওলানা মামুনুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই সাজেদুল হক সকাল সাড়ে ১১টায় মামুনুল হককে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এর আগে গত রোববার বেলা ১টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, ইবাদত করার উপযোগী জায়গায় রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। রিমান্ড শুনানির সময় বিচারকের কাছ থেকে তিনি এ আবেদন করেন। মামুনুলের আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ এ তথ্য জানান।

মেজবাহ বলেন, আদালতে মাওলানা মামুনুল হক কথা বলার জন্য অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রমজানে নিয়মিত ইবাদত করি, রোজা রাখি। গতকাল আমাকে যেখানে রাখা হয়েছে সেটা বসবাস ও ইবাদতের অনুপযোগী। আমি আদালতের কাছে আবেদন জানাই, আমাকে যেন ইবাদতের উপযোগী জায়গায় রাখা হয়।’ তখন আদালত বলেন, ‘আপনাকে ইবাদতের উপযোগী জায়গায় রাখা হবে। আপনার কোনো কষ্ট হবে না, ইবাদতের বিঘ্ন ঘটবে না।’

আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ বলেন, মাওলানা মামুনুলের বিরুদ্ধে মসজিদ থেকে এক ব্যক্তিকে বের করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলেছে, ওই ব্যক্তিকে বের করে দেওয়ার সময় তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। মূলত এ ধরনের কোনো ঘটনাই ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঘটেনি। তিনি আদালতকে বলেন, রোববার মামুনুলকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে দীর্ঘসময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সেজন্য তাকে আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

গতকাল মামুনুলকে গ্রেপ্তারের পর মোহাম্মদপুর কলেজ রোডের তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তেজগাঁও থানা। এ বিষয়ে নিজ কার্যালয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০২০ সালে মোহাম্মদপুর থানায় একটি নাশকতা মামলা হয়। মামলা তদন্তে ওই ঘটনায় সুস্পষ্ট সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েই তাকে (মামুনুল হক) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হেফাজতের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা, থানায় হামলা, ভাঙচুরসহ অনেক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলছে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে আলোচনায় আসেন মামুনুল হক। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ডিসেম্বরে কুষ্টিয়া শহরে বঙ্গবন্ধুর একটি নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়। ভাস্কর্য বিরোধিতা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। এর মধ্যে আবার গত মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা হয়। সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় সংঘাত-নাশকতার ঘটনায় মামুনুল হকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে গত ৩ এপ্রিল এক নারীসহ অবরুদ্ধ হয়ে আবারও আলোচনায় আসেন মামুনুল হক। যদিও ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন হেফাজতের এই নেতা।

আরো উল্লেখ্য যে, এ পর্যন্ত সংগঠনটির অন্তত আটজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে গত শনিবার রাতে বারিধারা মাদ্রাসা থেকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই দিন দুপুরে গ্রেপ্তার হন কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বিকালে লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হেফাজত নেতা জুবায়ের আহমেদকে। গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত হোসেন। গত ১৩ এপ্রিল রাতে যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফউল্লাহ্কে। গত ১১ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয় চট্টগ্রাম থেকে। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সহিংসতার ঘটনার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

নিউজজি/টিবিএফ

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers