শনিবার, ৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮ , ২৫ রমজান ১৪৪২

দেশ

দিনাজপুরে রসুনের বাম্পার ফলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি ২০ এপ্রিল, ২০২১, ১৩:২৬:৪৭

  • ছবি : নিউজজি

দিনাজপুর: ১৩টি উপজেলায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অতিরিক্ত ৫১৩ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ অর্জিত হয়ে জেলায় বাম্পার রসুনের ফলন হয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিগত কয়েক বছর কৃষকেরা ধান ভুট্টা ও অন্যান্য ফসল উচু জমিতে আবাদ করার কারনে রসুনের উৎপাদন ও চাষ অনেকটা হ্রাস পেয়েছিল। গত ২ বছর থেকে জেলার ১৩টি উপজেলাতেই কৃষকদের রসুন চাষে উৎসাহ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের ব্যাপক উৎসাহ দেয়া হয়।

রসুন চাষ সফল করতে রসুনের ভালো বীজ সরবরাহ ও ভুর্তকি দিয়ে কৃষকদের রসুন চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি করা হয়। ফলে চলতি বছর জেলার ১৩টি উপজেলায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অতিরিক্ত ৫১৩ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ অর্জিত হয়েছে। ফলে জেলায় চলতি বছর ৫ হাজার ৭১৩ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ অর্জিত হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই গত ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত রসুন বোপন করা হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে রসুন ক্ষেত থেকে কৃষকরা উঠানো শুরু করেছেন। পুরো এপ্রিল মাস রসুন উত্তলনের কাজ চলবে।  

দেশের সর্বাধিক রসুন উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলায় কৃষকরা ব্যাপক হারে রসুনের আবাদ করছেন। বিগত বছরগুলোতে 'বিনা হালে' রসুন চাষ পদ্ধতিতে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। উৎপাদিত রসুনের ভালো দাম পাওয়ায় এ মৌসুমেও তারা রসুন চাষে ঝুঁকেছেন।

এদিকে, সেচ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারও জেলায় রসুনের বাম্পার ফলনে কৃষক লাভবান হবে বলে কৃষি বিভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করছে।

রসুন উৎপাদনে সৃষ্ট উপজেলা চিরিরবন্দরে চলতি মৌসুমে ৪৮০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ৫০০ হেক্টরে অর্জিত হয়েছে।

চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা, বিন্যাকুড়ি, নশরতপুর, ফতেজংপুর, সাইতাড়া, আলোকডিহি তেতুঁলিয়া ও ভিয়েল গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমের শুরুতে রসুনের ভালো দাম ছিল না। তবে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে রসুনের ভালো দাম পেয়েছে কৃষকরা। ভালো দাম পাওয়ায় এ বছরও এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপকহারে রসুন আবাদ করেছেন।

এছাড়া, এবার রসুন বীজের অঙ্কুরোদগমও ভালো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এবং প্রয়োজনীয় সেচ ও সার পাওয়ায় রসুনের ফলন ভালো হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রসুনের বাম্পার ফলন আশা করছেন।

উপজেলার সাতনালা গ্রামেরচাষী জাকির হোসেন ও আলোকডিহি গ্রামের বেলাল হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে রসুন চাষে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক লাগছে। তাদের শ্রমমূল্য ও খাবার খরচ বাবদ খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। এছাড়া বীজ, রাসায়নিক সার ও সেচ দিতে আরও প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ পড়ছে।

ভালো ফলন হওয়ায় প্রতিবিঘা জমিতে ২৫ থেকে ৩০ মণ রসুন উৎপাদন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা কম হলেও পরবর্তীতে প্রতিমণ রসুন ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা যাবে। এতে বিঘা প্রতি সব খরচ বাদে ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, বর্তমানে চিরিরবন্দর, খানসামা ও পার্বতীপুর সহ অন্যান্য উপজেলাগুলোতে কৃষকদের কাছে রসুন প্রধান অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। এছাড়া আবহাওয়া অনুকুল থাকায় রসুনের বাম্পার ফলন অর্জিত হয়েছে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers