সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ , ১০ জিলকদ ১৪৪২

দেশ

খালেদা জিয়া অসুস্থ রাজনীতির শিকার: ডা. জাফরুল্লাহ

নিউজজি প্রতিবেদক ৮ মে, ২০২১, ২০:০৯:৪৬

  • ছবি: নিউজজি২৪

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ রাজনীতির শিকার বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী চিকিৎসকরা ভয়ে মুখ খুলছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

শনিবার (৮ মে) রাজধানীর ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি। এই সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ আটককৃত সকল শিক্ষার্থীকে ঈদের আগে জামিন দিতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছেন দেশের ১৮ বিশিষ্ট নাগরিক। সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠি গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রার শাখায় হস্তান্তর করা হয়। 

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, হাফিজ উদ্দিন খান, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক পারভীন হাসান, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, বদিউল আলম মজুমদার, নারী নেত্রী শিরিন হক, লেখক নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং জোনায়েদ সাকি। 

তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতি ও ঈদ, সর্বোপরি ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের মুক্তি দেওয়া উচিত। জানা গেছে, বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার রয়েছেন।

এ চিঠিতে গত দুই মাসে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সকল ছাত্রদের আগামী রোজার ঈদের আগে জামিন দিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে, রিমান্ডে এবং করোনকালীন তাদের প্রতি কোনো নিপীড়ন হচ্ছে কি না তা তদন্তের ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল আইনে যার বিরুদ্ধে কটুক্তি বা মানহানি করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করতে পারবে না এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট নাগরিকরা অভিযোগে বলেন, জামিন পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধা তৈরি করে এই অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির কাছে এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে প্রয়োজনীয় ভূমিকা গ্রহণের জন্য নাগরিকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি ড. কামাল হোসেন বলেন, ছাত্রদের জামিন দেওয়া উচিৎ। জামিন সবারই অধিকার, জামিন পাওয়ার অধিকার সবারই আছে। বিশেষ করে ছাত্র সমাজ ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখে এসেছে। তারা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে জনমত গঠন করেন, আন্দোলন করেন। সেগুলোকে আমরা সব সময় উৎসাহিত করেছি এবং এখনো সেটা হওয়ার কথা। অতীতে নিম্ন আদালত সাহসী ভূমিকা রেখেছে, অনেক সময় তারা জামিন দিয়েছে। উচ্চ আদালত পর্যন্ত আসতে হয়নি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জামিন আমাদের মানবিক ও আইনগত অধিকার। আমাদের বিচারকগণ অত্যাধিকভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত, পুলিশ নিয়ন্ত্রিত। আমরা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। বিচারে দীর্ঘ প্রক্রিয়া সবচেয়ে বড় অত্যাচার। আজ এক মাস হয়ে গেছে আদালতে এখনো মামলা উঠে নাই। একই ধরনের ৫টা মামলা দিয়ে রেখেছে। এই জায়গায় প্রধান বিচারপতির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। ঈদের আগে প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক শক্তির বলে এসব ছাত্রদের জামিনের ব্যবস্থা করতে বলেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রধান বিচারপতির কাছে দেওয়া চিঠির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, পেনাল কোডসহ বিভিন্ন আইনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অর্ধ শতাধিক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের আদালতে হাজির করা হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদালত তাদের পুলিশ রিমান্ডে প্রেরণ করেছে। দেশের করোনা পরিস্থিতি ও সামনের ঈদ সর্বোপরি ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমাদের সন্তানতুল্য এই ছাত্ররা অবিলম্বে জমিনে মুক্তি পাওয়ার অধিকারী বলে আমরা মনে করি।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers