সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ , ১০ জিলকদ ১৪৪২

দেশ

জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

খাজা মেহেদী শিকদার ১৮ মে, ২০২১, ১৫:০৮:৫৫

  • ছবি: নিউজজি

ঢাকা: ঈদের ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদ আর চাকরি বাঁচাতে গ্রাম থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে থেকে রাজধানীর প্রবেশমুখ গাবতলীতে মানুষজনের ফেরার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে দূরপাল্লার বাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন যানবাহনে বাড়তি ভাড়া, অন্তহীন ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে রাজধানীতে আসছেন তারা।

মাগুরা থেকে নাসিমা নামের এক যুবতী নারী ট্রাকে করে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, মালামাল বহনকারী ট্রাকে করে অনেক কষ্ট করে ঢাকাতে প্রবেশ করেছি।

নীলফামারী থেকে গাবতলী এসেছেন শাহরিয়ার ইসলাম। একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈদের ছুটি শেষে ফিরেছেন রাজধানীতে। যাবেন সায়দাবাদ। তিনি বলেন, নীলফামারী থেকে ভেঙে ভেঙে গাবতলী পর্যন্ত এসেছি।

তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। আগে ঢাকা থেকে নীলফামারী যেতে বাসে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হতো। নীলফামারী থেকে চান্দুরা পর্যন্ত আসতেই আমার খরচ হয়েছে ১৭'শ টাকা। পথে ভোগান্তির অন্ত ছিল না।

যশোর থেকে ঢাকায় আসছেন আরিফ তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে বাসে ভেঙে ভেঙে এসেছি। শুধুমাত্র চাকরি বাঁচাতে এত কষ্ট করে রাজধানীতে এসেছি।

মোহাম্মদ মনির হোসেন পেশায় একজন কেয়ারটেকার। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জে থেকে নবীনগর আমার ফুফুর বাড়ি গিয়েছিলাম ঈদের ছুটি কাটাতে। সেখান থেকে এসেছি গাবতলী। যাব লালবাগ। সেখানে আমি একটি বাড়ির কেয়ারটেকারের চাকরি করি। ছুটি শেষে কাজে যোগদান করতে আবারও ফিরেছি রাজধানীতেৃ

নাগরপুর তেবাড়িয়া থেকে গাবতলী এসেছে আলী আজম। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিক্স ডিজাইনার। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করতে ঢাকায় এসেছে। তিনি বলেন, ঈদের ৭ দিন ছুটি শেষে কাজে যোগদান করার জন্যই এসেছি রাজধানীতে। ভেঙে ভেঙে এসেছি গাবতলী পর্যন্ত। গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া।

 

দিনমজুর রড মিস্ত্রি রহমান মিয়া রংপুর থেকে এসেছেন গাবতলীতে। তিনি বলেন, রংপুর থেকে রাতের বাসে উঠেছি সকালে আমিনবাজার এসে নেমেছি। ভাড়া গুনতে হয়েছে ১২'শ টাকা। ঈদের সময় বাড়ি গিয়েছিলাম ট্রাকে করে। তখন ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে রংপুর গিয়েছিলাম। আমিনবাজার থেকে গাবতলী আসতে দুইজনের ভাড়া দিতে হয়েছে ১৫০ টাকা। আজকে (মঙ্গলবার) কাজে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু পারলাম না। এখন যাব গুলিস্তান।

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এসেছেন শরীফ ইসলাম তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাস নাই এরপরে রাস্তাতে প্রচন্ড যানজট অনেক কষ্ট করে ফেরিতে উঠেছি। নিজস্ব প্রাইভেটকার এজন্য একটু ভোগান্তি কম হয়েছে তবে যারা ভেঙ্গে ভেঙ্গে এসেছে তাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, রাস্তায় অনেক কি আমাকে সিগন্যাল দিয়েছে কিন্তু আমি কাউকে আনতে পারিনি।

গাবতলীতে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টি.আই) বিশ্বজিৎ বলেন, আমিন বাজার এলাকার কোনো বাস গাবতলীতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, গাবতলী থেকে চলছে রাজধানী অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহণগুলো। গণপরিবহনে যারাই যাতায়াত করছেন তারা প্রত্যেকেই মাস্ক পরিধান করছেন।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এর পর ঈদের ছুটিতে সাধারণমানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যান। দূরপাল্লার যানবাহন না চলার কারণে এখন তারা বিভিন্ন ভোগান্তি নিয়ে ঢাকামুখী হচ্ছেন।

নিইজজি/টিবিএফ

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers