বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ , ১৮ জিলহজ ১৪৪২

দেশ

হর্ন না বাজানোর শপথ গাড়ি চালকদের

নিউজজি প্রতিবেদক ২০ জুন, ২০২১, ০০:২৯:৪৫

  • হর্ন না বাজানোর শপথ গাড়ি চালকদের

ঢাকা: শব্দ দূষণ নীরব ঘাতক। শব্দ দূষণের ভয়াবহতার ফলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। শব্দ দূষণের উৎসসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি উৎস হলো গাড়ি। শহরে দিনদিন গাড়ি বাড়ার সংগে বাড়ছে শব্দ দূষণও। তাই শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা অতি জরুরি। সেই কথা মাথায় রেখে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় ১৪ টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে প্রায় ১৪০০ পরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের এই প্রশিক্ষণ আওতায় আনার পরিকল্পনা তাঁদের।

তারই অংশ হিসেবে শনিবার (১৯ জুন) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে উঠে আসা বক্তব্যে শব্দ দূষণের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে অযথা হর্ন না বাজানোর শপথ করেন পরিবহন চালকরা।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউর হাসান এনডিসি বলেন, সরকারি ড্রাইভারদের এই ধরণের প্রশিক্ষণ অন্যদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে সহায়তা করবে। তিনি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রেক্ষিতে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা পরামর্শ দেন। একই সংগে এই ভাবে সরকারের অন্যান্য দপ্তর বা সংস্থার সংগে সুষ্ঠু সমন্বয়ের উপরও তিনি জোর দেন। আগামী প্রজন্মকে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণযুক্ত একটি শহর উপহার দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বদূলক প্রকল্পে পরিচালক মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকারি  প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালকরা আইন মেনে চললে এবং শব্দ দূষণ না করলে অন্যরা উদ্বুদ্ধ হবে। তাই আমরা আগে সরকারি চালকদের নিয়ে আয়োজন করেছি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চালকদের মতো সব মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য পরিবহন চালকের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।  

কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরী। ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর সচিবালয় ও আগারগাঁও এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর বাস্তবায়ন চালকের উপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত গাড়ি শব্দ দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। ব্যক্তিগত গাড়ি অন্য গাড়ির চেয়ে ১৯.৪১ শতাংশ বেশি শব্দ দূষণ করে। রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের সংগে যারা যুক্ত তাদের মধ্যেও শব্দ দূষণের ক্ষতিকর বিষয়গুলো তুলে ধরা প্রয়োজন।

অপর এক প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান প্রফেসর শেখ নুরুল ফাত্তাহ রুমি বলেন, পৃথিবীর জ্ঞান-বিজ্ঞান যত এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের জীবন সহজ হয়ে উঠছে। সেই সংগে আমাদের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। শব্দ দূষণ শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলে। শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্লান্তি, অবসাদ, অনিদ্রা, মানসিক চাপ ইত্যাদি রোগেরও অন্যতম কারণ শব্দ দূষণ। শব্দ দূষণে শিশুদের স্বাস্থ্যে ও গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যে ও তাদের আগত সন্তানদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

বিআরটিএ এর পরিচালক লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, বিআরটিএ শব্দ দূষণ বিষয়ে সচেষ্ট। আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোতে এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করেছি। পরিবেশ অধিদপ্তর এর সাথে আমরা একসাথে এই বিষয়ে কাজ করে যাবো।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক তেজগাঁও) এস এম শামীম বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আমাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের কাছে স্প্রিড গান থাকা শর্তেও গাড়ি চালকরা ক্রমাগতভাবে ট্রাফিক রুল, স্পিড রুল না মানার বিষয়টি তুলে ধরেন। 

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে মেশিন দিয়ে ৫ মিনিটে ১৭টি মামলা করা হয়েছে তারপরও চালকদের মাঝে আইন না মানার প্রবণতা কমে না বলেও জানান তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাঃ সোলায়মান হায়দার বলেন, চালকদের শব্দ দূষণের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে রাস্তায় পথচারীদের প্রাধান্য দেয়া। অযথা হর্ন বাজিয়ে পথচারীকে বিব্রত না করা। রাস্তায় চলাচলের সময় সাইনগুলো ভালো করে লক্ষ্য রাখা। বিশেষ করে যে সকল এলাকা নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত সেখানে হর্ন বাজানো থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আশরাফ উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে শব্দ সৃষ্টি হলেও গাড়ি হচ্ছে অন্যতম কারণ। রাইড শেয়ারিং এর কারণে গাড়ির সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই আমরা চালকরা যদি সচেতন না হই, তাহলে শব্দ দূষণের মত নীরব ঘাতককে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আমাদের হাইওয়ের পাশে বিভিন্ন রকম স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। এ বিষয়গুলোও নগর পরিকল্পনাবীদদের লক্ষ্য রাখা উচিত। 

আগামীতে পরিবেশ অধিদপ্তর নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত আগারগাঁও এলাকায় ডিএমপির সহযোগিতায় নিয়মিত মোবাইল কোট পরিচালনা করবে বলেও জানান তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা এর সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের চালকগণ।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers