শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৮ শ্রাবণ ১৪২৮ , ১৩ জিলহজ ১৪৪২

দেশ

ভোলায় ইউপি নির্বাচনে সংর্ঘষ গুলিতে নিহত-১, আহত ১০

ভোলা প্রতিনিধি ২১ জুন, ২০২১, ২০:১৩:২৯

  • ছবি: সংগৃহীত

ভোলা: ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দুই মেম্বর প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের সংঘর্ষ হামলা ও ধাওয়া পাল্টার ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিতে মনির মাঝি (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এছাড়াও চরফ্যাসনের আরো ৩টি ইউনিয়নের নির্বাচনে বিছিন্ন সহিংসতায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

অপরদিকে তজুমদ্দিন উপজেলার চাচড়া ইউনিয়নে কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রভাব বিস্তার ও কর্মী সমর্থকদের মারধরের অভিযোগে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াদ হোসেন হান্নান ভোট বর্জন করেছেন। তবে সকাল থেকে টানা মুষলধারে বৃস্টি থাকায় কেন্দ্রে আসা ভোটাররা নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২১জুন) সকাল ১১ টায় চরফ্যাসনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ২০৭ নং চরফকিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী ইয়াসিন মাঝি ও রুহুল আমিন দালালের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ও সংর্ঘষ হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ওই এলাকার বশির সিকদারের ছেলে মনির মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনা স্থলেই মারা যান। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ১২ রাউন্ড রাবার বুলেটের ছুড়ে পুলিশ। এদিকে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ মনিরকে উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহততের পিতা অভিযোগ, তার ছেলে ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। সে কোন প্রার্থীর পক্ষে সহিংসতায় জড়ায়নি।

ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থীর ছেলে লোকজন নিয়ে কেন্দ্রে হামলা চালালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ১২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়স্ত্রণে আনে। সহিংসতায় জড়িত এক প্রার্থীর বিদেশ ফেরত ছেলের গুলিতে মনির নিহত হয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে সোমবার (২১ জুন) দুপুরে তিনি নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে চাচড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী  রিয়াদ হোসেন হান্নান অভিযোগ করেন, নির্বাচন শুরু হওয়ার সাথে তার আনারস প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় প্রতিপক্ষ প্রার্থী নৌকার কর্মীরা। যেসব কেন্দ্রে এজেন্ট ছিলো তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনের শুরুর আগে বহিরাগত লোকদের দিয়ে তার সমর্থকদের ১৫০ টি ঘর ভাংচুর এবং হামলা চালায়। এতে ১০০ কর্মী আহত হয়েছে। ভোটের পরিবেশ না থাকা এবং নানা অনিয়ম হওয়ায় ভোট থেকে তিনি সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। বিষয়টি প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকেও লিখিত ভাবে জানিয়েছি।

 এ সময় তিনি ভোট বর্জন করে পুনরায় ভোটের দাবী জানান। বোরহাউদ্দিনে গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ১৯ নং ধারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দুপুরে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। তবে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেনের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেস্টা কালে ২ জনকে আটক করা হয়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় ভ্রাম্যমান আদাল মুছলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেয়।

অন্যদিকে কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া জেলার চার উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে শান্তিপুর্ন ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও কেন্দ্রে কেন্দ্র বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষকে লাইে দাড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। তবে কেন্দ্রে আসা ভোটারা স্বাস্থ্যবিধির কোন তোয়াক্কা করেন নি। বৃস্টির কারণে কেন্দ্রের বারান্দা ও ভিতরে ঠাসাঠাসি করে অবস্থান করতে দেখা গেছে। চরফ্যাসন উপজেলার ৫টি ও বোরহানউদ্দিনের ১টি ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ায় চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়নি। তবে সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেকেই ভোট দিতে দেখা যায়। 

নিউজজি/এস দত্ত

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers