শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ , ৭ জিলহজ ১৪৪৫

শিল্প-সংস্কৃতি

গীতিকবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রয়াণ দিবস আজ

নিউজজি ডেস্ক ২৪ মে, ২০২৪, ০১:০৩:২৫

60
  • গীতিকবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রয়াণ দিবস আজ

ঢাকা: আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার স্রষ্টা বিহারীলাল চক্রবর্তী ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতার নিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম দীননাথ চক্রবর্তী। মাত্র চার বছর বয়সেই বিহারীলাল মা-হারা হন। গৃহেই তিনি সংস্কৃত, ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্যের জ্ঞান অর্জন করেন। পরে তিন বছর সংস্কৃত কলেজে লেখাপড়া করেন। তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে কলকাতায় পরলোকগমন করেন।

গীতিকবিতার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের গুরু হিসেবে খ্যাত বিহারীলালের কবিতায় প্রথম বিশুদ্ধভাবে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলালকে বাংলা গীতিকাব্য ধারায় ‘ভোরের পাখি’ বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলালের কবিতায় রয়েছে আত্মময়তা, রোমান্টিকতা, সাংগীতিক দোলা, ছন্দ-অলংকারের অভূতপূর্ব ব্যবহার ও অনুভূতির সূক্ষ্মতা, যা বাংলা কাব্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর রচনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সারদামঙ্গল (১৮৭৯) ও বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০)। এ ছাড়া স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮), সঙ্গীতশতক (১৮৬২), বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০), প্রেমপ্রবাহিনী (১৮৭০), সাধের আসন ( ১৮৮৮-৮৯), ধূমকেতু (১৮৯৯) ইত্যাদি কাব্য রয়েছে। ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষভাবে আকৃষ্ট ও প্রভাবিত হন। রবীন্দ্রনাথের গীতিকাব্যে বিহারীলালের প্রভাব সুষ্পষ্ট।

বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। পূর্ণিমা (১৮৫৯), সাহিত্য সংক্রান্তি (১৮৬৩), অবোধ বন্ধু (১২৭৫) ইত্যাদি তার সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা। বিহারীলালের সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। মনোবীণার নিভৃত ঝংকারে এগুলোর সৃষ্টি। বাঙালি কবি মানসের বহির্মুখী দৃষ্টিকে অন্তর্মুখী করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন