বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ , ২ রমজান ১৪৪৭

শিল্প-সংস্কৃতি

শিল্পাচার্য জয়নুল, আমাদের চিত্রশিল্পের বাতিঘর

মাঈনুদ্দীন দুলাল ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬:৩৪:০১

241
  • শিল্পাচার্য জয়নুল, আমাদের চিত্রশিল্পের বাতিঘর

" আজ ২৯ ডিসেম্বর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন। ১৯৮৪ সালে জন্ম তার। মারা যান ১৯৭৬ সালের ২৮ মে। বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের বিকাশ ও প্রসারে জয়নুল চিরস্মরণীয়। তাঁর জন্যে অতল শ্রদ্ধা। "

নদীর পাড়ে বসে কিশোর জয়নুল দেখছেন কাশফুলের সফেদ গালিচা। লিলুয়া বাতাসে দুলছে কাশবন। মুগ্ধ কিশোর। কাশবনের দোলাচল, ফিঙে, দোয়েল, শালিকের ঝাঁক, নদীর ওপরের শঙ্খ চিল জয়নুলের চোখে-মননে আঁকে চিত্রকল্প। কানে কানে তারা কিশোরকে মন্ত্রনা দেয়। প্রকৃতির এইসব অনুষঙ্গকে আঁকার। সেই কিশোর আজীবন ছুটলেন আঁকাবুকির দূর্গম পথে। ক্লান্তিহীন তার ছুটে চলা। তার সাধনা বাংলাকে নিয়ে গেল আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে।

এক স্মৃতিচারণে জয়নুল লিখেছিলেন, যদি আমার কাছে জানতে চাওয়া হয় - "আমি ছবি আঁকা শিখলাম কী করে? বা কার কাছ থেকে? তবে উত্তর দিতে পারবো না। বলবো আমার দেশের প্রকৃতি আর পরিবেশ আমাকে ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। এদেশের আকাশ, বাতাস, নদী, মাঠ, বন, এখানকার মানুষের চলাফেরা, ওঠা-বসা, হাসি কান্না আমাকে ছবি আঁকতে বলে।"

কলকাতায় আর্ট কলেজে ভর্তি হন জয়নুল এবং ব্রিটিশ ও জাপানি শিল্পীদের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হন। জয়নুল আবেদিন পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন দুর্ভিক্ষ নিয়ে আঁকা সিরিজ ছবি নিয়ে। শুধু জাতীয় নয় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তিনি খ্যাতি পান। ১৯৪৩ সালের মন্বন্তরের ভয়াবহতা ও মানুষের দুর্দশা নিয়ে আঁকা এই ছবিগুলো সেই সময়ের মানবিক সংকটকে তুলে ধরে। খাবারের সংস্থান নেই,রং-তুলি, কাগজ কেনার পয়সা যোগার অসম্ভব। কিন্তু মানুষের এই বেদনা তার শিল্পী সত্তাকে প্রচন্ড আলোড়িত করছে। ছবি আঁকার ক্ষুধা তার কাছে দুর্ভিক্ষের চেয়েও ভয়ঙ্কর। তিনি মাধ্যম হিসেবে সস্তা কাগজে পেন্সিল স্কেচকেই বেছে নিলেন। ছবিগুলো দেখলে মনে হয় জয়নুলের চোখের জলে আঁকা মানুষের বেদনা।

জয়নুলের ছবি ' মই দেয়া', 'সংগ্রাম', 'সাঁওতাল রমনী', 'ঝড়',  নবান্ন' এইসব ছবি চিরন্তন বাংলার মানুষের ও প্রকৃতির আবহমান চিত্র। শিল্প বোধের সাথে বাংলার জন্যে আকুল দরদ টের পাই। বাংলাদেশ সবসময় ছিলো তার বুক জুড়ে। তাই এখানে প্রাতিষ্ঠানিক চিত্রকলার বিকাশের চেষ্টায় তিনি ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন আর্ট কলেজ। যা কলেবর বাড়িয়ে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সস্টিটিউট।

মুক্তিযুদ্ধের মত মহাকাব্যিক ঘটনা তাকে প্রভাবিত না করে পারেনা। মুক্তযুদ্ধ তাকে প্রচণ্ড আলোড়িত করেছিল। দেশ স্বাধীনের পর লেগে পড়লেন শিল্পচর্চা সংগঠনের কাজে। এবারে লোকশিল্পে পূর্ণ মনোযোগ তার। স্বপ্ন দেখলেন লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার জয়নুল আবেদিনকে দায়িত্ব দিলেন বাংলাদেশের সংবিধানের অঙ্গসজ্জার জন্যে। তিনিও বিনা বাক্যে রাজি।  আরও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে করলেন সেই কাজ।

তাকে বলা হয় শিল্পাচার্য। তিনি বাংলা চিত্রশিল্পের অভিভাবক এবং আচার্যই বটে।

 

 

লেখক: সাংবাদিক

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন