রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৪ সফর ১৪৪৮

শিল্প-সংস্কৃতি

আজ কবিগুরুর রবীন্দ্রনাথের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী

নিউজজি ডেস্ক ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৭:৪০

110
  • রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণবার্ষিকী

ঢাকা: বর্ষার প্রকৃতি, মেঘের ঘনঘটা ও বৃষ্টির সুরের সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিল গভীর এক সম্পর্ক। তার অসংখ্য কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্মে বর্ষার সৌন্দর্য বারবার উঠে এসেছে। সেই বর্ষারই এক দিনে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান বাংলা সাহিত্যের এই মহান পুরুষ। আজ ৬ আগস্ট, ২২ শ্রাবণ, বিশ্বকবির ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী।

১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ (৭ আগস্ট ১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার সৃষ্টি, চিন্তাধারা, দর্শন, সংগীত ও মানবিক মূল্যবোধ আজও বাংলা ভাষাভাষী মানুষের পাশাপাশি বিশ্ব সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

শৈশবেই সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি হয় রবীন্দ্রনাথের। মাত্র আট বছর বয়সে লেখালেখি শুরু করে দীর্ঘ জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে উপহার দিয়েছেন কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র ও শিশুসাহিত্যের অমূল্য সম্ভার। দুই হাজারের বেশি গান রচনার মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন অনন্য সংগীতধারা ‘রবীন্দ্রসংগীত’, যা আজও বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

শুধু সাহিত্য নয়, শিক্ষাচিন্তা, সমাজসংস্কার ও মানবকল্যাণেও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পথিকৃৎ। শিক্ষাকে প্রকৃতি ও মানবিকতার সঙ্গে যুক্ত করার স্বপ্ন থেকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শান্তিনিকেতন, যা পরে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে তিনি কৃষিঋণ ব্যবস্থা এবং পল্লি উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা সে সময়ের জন্য ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ।

১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি ছিলেন এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক। এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য বিশ্বদরবারে এক নতুন মর্যাদা লাভ করে।

মানবতা ও ন্যায়ের প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথ কখনো আপস করেননি। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে মানবিক প্রতিবাদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ (৭ মে ১৮৬১) কলকাতার ঐতিহ্যবাহী জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা সুন্দরী দেবীর ১৫ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ১৪তম। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ আবহে বেড়ে ওঠা রবীন্দ্রনাথ পরবর্তী সময়ে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার বুকে নৌভ্রমণের মাধ্যমে বাংলার প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবনকে কাছ থেকে উপলব্ধি করেন। এসব অভিজ্ঞতা তার অসংখ্য সাহিত্যকর্মে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনেও রবীন্দ্রনাথের গান মানুষকে সাহস, আশা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। একইভাবে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর রচয়িতাও তিনি। বিশ্বের ইতিহাসে দুটি দেশের জাতীয় সংগীতের স্রষ্টা হিসেবে রবীন্দ্রনাথ এক বিরল সম্মানের অধিকারী।

বিশ্বকবির প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, স্মরণানুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনা। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে ছায়ানটের আয়োজনে মঞ্চস্থ হবে গীতিনাট্য ‘শ্যামা’। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি নন, তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার সৃষ্টিশীলতা সময়ের সীমা পেরিয়ে আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তাই ২২ শ্রাবণ শুধু তার প্রয়াণের দিন নয়, বরং তার কালজয়ী সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোরও একটি বিশেষ দিন।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers