সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২২ জিলহজ ১৪৪৭

অর্থ ও বাণিজ্য

‘এনবিআর সংস্কার ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়’

নিউজজি ডেস্ক ১২ মে , ২০২৬, ১০:৪০:১৭

165
  • সংগৃহীত

ঢাকা: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমূল সংস্কার ছাড়া দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত এখন সর্বনিম্ন, যা সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাকে সংকুচিত করে দিচ্ছে।

সোমবার (১১ মে) রাতে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে দৈনিক বণিক বার্তার ‘সোনার বাংলা’ নীতি-আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, এক সময় দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ১০-১১ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা ৭ শতাংশের নিচে (৬.৮ শতাংশ) নেমে এসেছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা এখন সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছি। রাজস্ব আহরণ কম হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প ও নাগরিকদের দৈনন্দিন সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ফিসক্যাল স্পেস বা আর্থিক সংকুলান না থাকলে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব নয়।

আগের সরকারের ‘অসম্পূর্ণ’ সংস্কারের সমালোচনা করে আমির খসরু বলেন, অসম্পূর্ণ সংস্কার, কোনো সংস্কার না থাকার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।

তিনি বলেন, এনবিআর-এর নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন বিভাগকে দ্রুত দুই ভাগে বিভক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে সংসদে ঝুলে থাকা বিল স্থগিত করে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ট্যাক্স পলিসি বা কর নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেশের অর্থনীতির ‘ডিএনএ’ বুঝতে হবে।

করদাতাদের ওপর বারবার চাপ বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু অফিসে বসে হিসাব মেলালে হবে না। ব্যবসার কষ্ট (পেইন), শিল্পের সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের চাহিদা বুঝে কর নীতি সাজাতে হবে। যারা পুনবিনিয়োগ করছে, তাদের ওপর বাড়তি করের চাপ না দিয়ে বরং কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা এমনভাবে ট্যাক্স-জিডিপি বাড়াতে চাই যাতে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমরা টোটালি ট্রান্সপারেন্ট পলিসি চাই।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের রেমিট্যান্স আয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন বা অ্যাক্রেডিটেশন ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো স্কিলিং (দক্ষতা উন্নয়ন) প্রকল্পে সরকার বিনিয়োগ করবে না। আগামী ৪-৫ বছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকবে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers