মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৫ সফর ১৪৪৮

অর্থ ও বাণিজ্য

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ ও সংস্কার প্রয়োজন: আইসিএবি

নিউজজি প্রতিবেদক ১৩ জুন , ২০২৬, ১৭:০৬:০৪

180
  • ছবি : নিউজজি

ঢাকা: ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। তবে বাজেটে নির্ধারিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং কার্যকর সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার রাজধানীর সিএ ভবনে আয়োজিত “প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭-এর ওপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভাবনা” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন আইসিএবি নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে তারা সতর্ক করে বলেন, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমিয়ে দিতে পারে এবং বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আইসিএবি’র প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন বলেন, সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, কর প্রশাসনে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও আইসিএবি’র যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ ব্যবস্থা কর ফাঁকি রোধ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

এন কে এ মবিন আরও বলেন, আয়কর আইন-২০২৩, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২, কাস্টমস আইন-২০২৩সহ বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার ওপর আইসিএবি যে সুপারিশ দিয়েছিল, তার বেশ কয়েকটি প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসা পরিচালনা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আইসিএবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, কর পরামর্শ, নিরীক্ষা কার্যক্রম, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত, কর আইন পরিপালন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নেও তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইসিএবি কাউন্সিল সদস্য ও ট্যাক্সেশন অ্যান্ড করপোরেট ল’স কমিটির চেয়ারম্যান এম বি এম লুৎফুল হাদী। সমাপনী বক্তব্য দেন আইসিএবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রোকোনুজ্জামান, কাউন্সিল সদস্যবৃন্দ এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

 

নিউজজি/জেডএইচ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers