সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ , ২৭ মুহররম ১৪৪৮

অর্থ ও বাণিজ্য
  >
কর্পোরেট সংবাদ

টেকসই উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে বিকে স্কুল অব রিসার্চ ও সিএফইপি

নরসিংদী প্রতিনিধি ৪ সেপ্টেম্বর , ২০২৫, ১৭:১৪:৩৫

319
  • টেকসই উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে বিকে স্কুল অব রিসার্চ ও সিএফইপি

নরসিংদী: বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিকে স্কুল অব রিসার্চ এবং শ্রীলঙ্কাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র সিলন ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক পলিসি অ্যানালাইসিস (সিএফইপি) একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

বুধবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় অনলাইনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন উক্ত চুক্তি অনুযায়ী, দুই প্রতিষ্ঠান যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ, পলিসি এডভোকেসি, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নীতি-সংলাপ, সেমিনার ও সম্মেলনের আয়োজন করবে এবং যৌথভাবে নীতি-সারসংক্ষেপ ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

যা দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক-অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত জরুরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র ও যুব-নেতৃত্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে সমৃদ্ধ করবে। জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই জীবিকা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মতো বিষয়ে আঞ্চলিক জ্ঞান-বিনিময়ের গুরুত্বও এতে প্রতিফলিত হয়েছে। এই সমঝোতার মাধ্যমে বিকে স্কুল অব রিসার্চ ও সিএফইপি দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এবং নতুন প্রজন্মের নীতি গবেষক তৈরিতে তাদের প্রতিশ্রুতি ব‌্যক্ত করেছে।

শ্রীলঙ্কাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র সিলন ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক পলিসি অ্যানালাইসিস (সিএফইপি) এর চেয়ারম্যান ও পরিচালক পাসান বিজয়াবর্ধনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া আজ বহুমুখী সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ সমঝোতা স্মারক যৌথ গবেষণা কর্মকান্ডকে শক্তিশালী করবে, যা সরাসরি নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখবে।

বিকে স্কুল অব রিসার্চ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক বিজন কুমার বলেন, এই সমঝোতা আমাদের গবেষণা প্রচেষ্টাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং তরুণ গবেষকদের কণ্ঠস্বর জোরালো করবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা তথা টেকসই অভিলক্ষ‌্য অর্জনের ক্ষেত্রে গবেষণামুখী তরুণদের ভূমিকা পালনে দারুণ সহায়ক হবে এই সমঝোতা।

অনলাইনে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে  বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, শ্রীলংকা, তাইওয়ানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণ গবেষকবৃন্দ ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর নরসিংদী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

টেকসই সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে বিকে স্কুল অব রিসার্চ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই গবেষণা সংস্থাটি তরুণদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে অনুপ্রাণিত করছে এবং পলিসি-ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ২৩টি দেশের ৫৫ জন তরুণ গবেষক এখানে কাজ করছেন এবং ১৫ জনেরও বেশি খ্যাতনামা অধ্যাপক গবেষণা ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন।

এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ২৫টি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং তা প্রবন্ধ আকারে এলসেভিয়ার, টেলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস ও ট্রান্সন্যাশনাল প্রেস লন্ডনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে প্রকাশ করেছে। গবেষণার পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি সহায়ক কর্মসূচি যেমন গবেষণা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালাসহ বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড  পরিচালনা করেছে যা থেকে উপকৃত হয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি তরুণ।

যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বিকে স্কুল অব রিসার্চের গবেষণা উপস্থাপিত হয়েছে। গবেষণায় উৎকর্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২৩ সালে নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ে বেস্ট পেপার এওয়ার্ড, ২০২০ সালে বিমসকন প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ এবং ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস আয়োজিত রিসার্চ প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় সেরা দশ।

এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ এই সংস্থার তিনটি গবেষণা প্রকল্পকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে যুবনেতৃত্বাধীন সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য বিকে স্কুল অব রিসার্চ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers