বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

অর্থ ও বাণিজ্য
  >
অর্থনীতি

কাঁঠালের বিস্কুট এলো, আসবে আরো খাদ্যপণ্য

মাঈনুদ্দীন দুলাল ১০ আগস্ট , ২০২৬, ১৭:৫৪:০০

209
  • কাঁঠালের বিস্কুট এলো, আসবে আরো খাদ্যপণ্য

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। স্বাদ, প্রাচুর্যতা, মানুষের প্রিয় ফল হিসাবেই ফলটি জাতীয় তকমা পেয়েছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে। প্রতি বছর দেশে প্রায় ২০ লাখ মেট্টিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমানে এই ফলটি নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশের এক উদ্যোক্তা এবার নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছেন। জি আই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একজন উদ্যোক্তা আব্দুস ছাত্তার ভুঁইয়া।

উৎপাদনের শুরুতেই কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিস্কুটের চাহিদা বাড়তে থাকায় তিনি আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে উৎপাদনের পরিকল্পনা করছেন। গাজীপুরের বৈরাগীর চলা গ্রামের মোমতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর আব্দুস ছাত্তার ভূঁইয়া পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় পাঁচশ কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। পণ্যটি বাজারে আসার পর থেকেই তিনি অফলাইন এবং অনলাইনে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া গত বছর চীন বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী দেখতে পান। বাংলাদেশে ফিরে পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট তৈরির উদ্যোগ নেন।

তিনি জানান, প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় বিশ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে। যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় ভিন্নতা এনে দিয়েছে।

চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান বিভিন্ন দেশেই কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে চীনে দেখার অনুপ্রেরণা নিয়ে এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট তৈরি শুরু করেছেন তিনি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

কাঁঠালের বিস্কুট খাওয়ার পর ক্রেতারা স্বাদ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে জানান এই উদ্যোক্তা। কাঁঠাল স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠালে প্রায় ৯৫ কিলোক্যালরি শক্তি, ২৩ গ্রাম শর্করা, ১.৭ গ্রাম প্রোটিন, ১.৫ গ্রাম ফাইবার এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজমশক্তি উন্নত করতে ও ত্বক ভালো রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

আমাদের ৩ পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। দুর্গম পাহাড়ে পরিবহণ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় অর্ধেকেরও বেশি ফল নষ্ট হয়। সরকারের সহায়তায় প্রতিটি পার্বত্য জেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন খাদ্য পণ্য তৈরির ছোট ছোট কারখানা তৈরি করা যায়।

কাঁঠালের বিস্কুট তৈরি হল। এরপর কেক, পাউরুটি ও অন্যান্য শুকনো খাবারও তৈরি হতে পারে। এটি আমাদের অর্থনীতি ও খাদ্যমানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। দেশীয় বাজার ছাপিয়ে জায়গা নিতে পারে আন্তর্জাতিক বাজারে। বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনেও সহায়তা করতে পারে। তবে এখানে উদ্যোক্তাদের সরকারের আর্থিক প্রণোদনা ও প্রাসঙ্গিক সহায়তা জরুরি।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers