শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিক্ষা

উপাচার্যের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা

বরিশাল প্রতিনিধি: ২৮ এপ্রিল , ২০২৬, ১৫:৩৮:৫১

178
  • উপাচার্যের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা

বরিশাল : পদোন্নতি ইস্যুতে দীর্ঘদিনের জটিলতা ঘিরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখন কার্যত অচলাবস্থার মুখে। চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’কর্মসূচির মধ্যেই এবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন’ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। তারা জানান, গত ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচির ফলে ইতোমধ্যেই ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আপগ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যভাগেই অনেক শিক্ষক পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করলেও তৎকালীন উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ মে দায়িত্ব গ্রহণ করা বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সময়েও বিষয়টি অগ্রগতি পায়নি, বরং নানা অজুহাতে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়েছে বলে দাবি তাদের।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের ৪৫ দিনের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা আহ্বান বাধ্যতামূলক হলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আংশিকভাবে বোর্ড সভা শুরু হলেও পরবর্তী সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়নি। একই সঙ্গে সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত করার বোর্ড সভাও হয়নি।

শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাজেট নিরীক্ষায় আসা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এর কিছু পর্যবেক্ষণকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে উপাচার্য পদোন্নতির কার্যক্রম স্থগিত করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে আপগ্রেডেশন বোর্ড, সিন্ডিকেট ও চ্যান্সেলরের বাইরে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। অথচ ইউজিসির নির্দেশনার দোহাই দিয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে, যা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।

শিক্ষকদের মতে, এই সংকট এখন শুধু পদোন্নতিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো একাডেমিক কার্যক্রমই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংবিধি অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতায় পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা ও ডিগ্রির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের অধিকাংশেই শিক্ষক সংকট তীব্র। অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক দিয়ে একাধিক ব্যাচের পাঠদান চালাতে হচ্ছে। প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে অন্তত ৫১টি শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হয়নি। অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ৪০১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২৬৬ জন শিক্ষক।

এ অবস্থায় দ্রুত শূন্যপদ পূরণ, পদোন্নতি কার্যক্রম চালু এবং একাডেমিক পরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবি জানান শিক্ষকরা। পাশাপাশি ইউজিসির লোড ক্যালকুলেশন নীতিমালার বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস না নেওয়ার সিদ্ধান্তও তুলে ধরেন তারা।

অন্যদিকে, পৃথক এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা চালু রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত নয়। চলমান পরিস্থিতি থেকে সরে আসতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উদ্ভূত সংকট নিরসনে দ্রুত সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers