সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২২ জিলহজ ১৪৪৭

শিক্ষা

উচ্চশিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের খয়িষ্ণু মডেল

ড: মিহির কুমার রায় ১৯ মে , ২০২৬, ১৩:৫১:৪৫

276
  • উচ্চশিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের খয়িষ্ণু মডেল

সূচনা:

শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা সামাজিক অধিকার। বাংলাদেশ আশির দশকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যোগদানের পর রাষ্ট্রীয় সীমাবদ্ধতায় উচ্চশিক্ষা খাতের সম্প্রসারণ, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা, সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের উদ্দেশে বেসরকারি খাতে অলাভজনক, মুনাফাহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (আইন ১৯৯২) প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠার তিন দশক পরে এ উচ্চশিক্ষা খাত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ নেই; ক্রমশ তা পণ্য বা সেবায় রূপান্তরিত হচ্ছে। নিত্য-নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন; অধিক টিউশন ফি, শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এই বাণিজ্যিকীকরণের প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচিত। এই প্রক্রিয়ার নামই 'উচ্চশিকার বানিজয়িকীকরণ'।

কেন এই বাণিজ্যিকীকরন?

বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষার প্রসারে নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতকে সহযোগিতায় সম্পৃক্ত করা। কারণ, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সীমিত আসনসংখ্যা, বাজেট স্বল্পতার বিপরীতে শিক্ষার চাহিদার দ্রুত বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির শিক্ষাবিষয়ক আকাঙ্ক্ষা- এই তিনটি প্রধান উপাদান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশ মুনাফাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০ সালের কোন ধারাই তারা মানছে না। যত ছাত্র ভর্তি তত আয়। যেখানে মানের বিষয় কিংবা গবেষনার বিষয় কোন বিবেচনায় নেয়া হয় না যা এক অভিনব ছলচাতুরি।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কয়টি:

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের নিজ অর্থায়নে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিতে ১৯৯২ সালে একটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়া হয়। পরবর্তিতে ১৯৯২ সালের আইন সংশোধন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনে নিজস্ব ক্যাম্পাসসহ বেশকিছু বিষয়ে বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। এ আইনের কারণে এরই মধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে। যা হোক,সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৭টি। যার মধ্যে অনেকগুলোর কার্যক্রম এখনও শুরু হয় নি। ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এদের মধ্যে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৬০০ এবং দেশে অধ্যয়নরত বিদেশী শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এসব শিক্ষার্থীর মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

গুলোর সংকট কোথায়?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ধরনের সংকট রয়েছে যেমন:

১. ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্ব: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ট্রাস্টি বোর্ড। শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ, সিলেবাস নির্ধারণ থেকে শুরু করে প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই ট্রাস্টি বোর্ড গ্রহণ করে। কিন্তু বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমরা বিভিন্ন স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও দেখেছি ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে বিঘ্নিত হয়েছে। শিক্ষাৰ্থীরা নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এমনকি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ আর্থিক কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়েছেন। ট্রাস্টি বোর্ডে এ ধরনের দ্বন্দ্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।  এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেনানা অনিয়ম-দুর্নীতি সংগঠিত হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে। ১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশই শিক্ষার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করেও রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পেয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডও রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠিত হয়েছে এবং এ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই ট্রাস্টি বোর্ডে প্রতিনিয়ত দ্বন্দ্ব হছে।

২. শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ মানসম্মত কারিকুলামের সংকট: মানসম্মত উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ। দেশের হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নেই। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, ল্যাব নেই, লাইব্রেরি নেই, নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই। এমনকি এমনও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যারা কোনোমতে একটি ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং বিভাগগুলো চলছে শুধু দু-একজন লেকচারার দিয়ে। এ ধরনের পরিবেশে কখনো মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এছাড়া উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে  সময়োপযোগী ক্যারিকুলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই সময়োপযোগী ক্যারিকুলাম নেই। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিকুলাম আধুনিকায়ন করা হলেও দক্ষ শিক্ষক ও ল্যাবের অভাবে ক্যারিকুলামের প্রয়োগ নেই। ফলে যেসব শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়ছেন তারা সময়োপযোগী শিক্ষা পাচ্ছেন না। তাদের মেধার সঠিক ব্যবহার ও বিকাশের সুযোগ পাচ্ছেন না। কেবল লেকচারার দিয়ে চালানো হয় শিক্ষা কার্যক্রম।

৩. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার প্রচেষ্টা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এখন শুধু উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই পড়ালেখা করছে না। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নম্নবিত্ত পরিবারের মেধাবী সন্তানরাও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। এমনকি এমনও পরিবার রয়েছে, যারা সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিতে নিজেদের জমি বিক্রি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেশি এটি স্বাভাবিক। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক ফি আদায় করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করে লাভজনক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ প্রবণতা রোধ করা না গেলে আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।

৪. লাভের অংশ উন্নয়ন কাজে ব্যয়িত না করা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এ বলা আছে যে আহরিত অর্থ খরচ বাদ দিয়ে লাভ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজে ব্যয়িত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়ে উঠছে না। ইউজিসি কর্তৃক নিয়মিত বিষয়গুলোর কোন প্রকার অডিট হয় না।

মানসম্মত শিক্ষা: সম্প্রতি টাইমস হায়ার এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং ২০২৫ সালের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শীর্য পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় ৮০১-১০০০ এর মধ্যে স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নৰ্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংকিং বেশ কয়েকটি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কর্মকাণ্ডই সব র‍্যাংকিং এজেন্সির জন্য প্রধান ও সাধারণ সূচক। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন জায়গাগুলো এবং কীভাবে উন্নত করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা করা দরকার। গবেষণায় রয়েছে প্রকাশনা, প্রতি শিক্ষকের সাইটেশন, প্রকাশনার প্রভাব, গবেষণা তহবিল বা আয়, নোবেল বিজয়ী এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। অতএব বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মক্ষমতা উন্নত করতে প্রধান অগ্রাধিকার গবেষণা উন্নয়ন ও প্রচার। সর্বোত্তম মানের গবেষণা ফলাফল তৈরির শক্ত  রেকর্ডধারী দক্ষ গবেষকরাই উচ্চমানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন এবং নতুন গবেষক তৈরি করে গবেষণার খ্যাতি, সাইটেশন, সহযোগিতা, প্রভাব এবং প্রশিক্ষণ বাড়িয়ে তুলতে পারেন। বর্তমানে দেশে সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ই আইকিউএসি প্রতিষ্ঠা করেছে। বলা চলে, বেশির ভাগ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জজুরী কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। এটা উচ্চশিক্ষায় মান যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ারই প্রতিফলন। দেশের অভ্যন্তরে ও বহিবিশ্বে দক্ষ ও গুণগত মানের মানবসম্পদ জোগাতে হলে শিক্ষার মানে জোর দেওয়ার বিকল্প নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগী ভুমিকা কাম্য।

শেষ কথা: শিক্ষাকে একটি বিনিয়োগযোগ্য পণ্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থী হচ্ছে 'গ্রাহক' এবং বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে 'সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান'। এর ফলে শিক্ষা প্রক্রিয়ার মানবিক ও বৌদ্ধিক (মেধাভিত্তিক) দিক অনেকাংশে উপেক্ষিত। গবেষণা আর শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার চেয়ে সেমিস্টার আর ভর্তি সংখ্যা বৃদ্ধি, টিউশন ফি বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত প্রদর্শনমূলক উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাড়ছে উচ্চশিক্ঙ্ক্ষিত বেকারত্বের হার, সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক নানা সমস্যা। সাম্প্রতিক দশকে পাশ্চাত্যমুখী অভিবাসনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ঙ্ক্ষিত বেকার তরুণদের সংখ্যা শতকরা প্রায় ৭৯ ভাগ। পরিসংখ্যান বলছে, '১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণেরাই বেশি বেকার, যার সংখ্যা ৩৮ লাখ। তাঁরা কোনো কাজকর্ম না করেই বছরের পর বছর চাকরির পেছনে ছুটছে (বিবিএস শ্রমশক্তি জরিপ-২০২৩)'। এ তো গেল একাডেমিক পরিসংখ্যান। কিন্তু যেসব শিক্ষার্থী বা তরুণেরা মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক শেষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়নি এবং অর্থাভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারার হতাশায় বিদেশি শ্রমিক হিসেবে পাড়ি জমিয়েছে বা প্রতারণার শিকার হয়ে চলে আসল, সেসব বেকার তরুণদের সুনিদিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে এসব সংকটের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সাফল্য ও সম্ভাবনাও রয়েছে। গত কয়েক বছরে আমরা গবেষণা খাতে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য অবদান দেখতে পেয়েছি। আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়েও এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্রুত উন্নতি করছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রশংসিত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশী শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করতেও সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্র সংস্কারেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একসময় রাষ্ট্রর সংস্কারের আন্দোলন-সংগ্রামগুলোয় আমরা শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেখতাম। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিকারীদেরও এসব ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণ দেখতে পাচ্ছি। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অন্ধা শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে রাষ্ট্ররের সংস্কারসহ প্রতিটি কৃষ্ণেরেই এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং সাফল্যও অর্জন করছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বর্তমানে যে সংকটগুলো রয়েছে, সুস্পষ্টভাবে কয়েকটি বিষয়ে কাজ করলেই বেশির ভাগ সংকট দূর করা সম্ভব। এর মধ্যে একটি হলো প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। ট্রাস্টি বোরম্ভে এমন ব্যক্তিদের রাখতে হবে যারা প্রকৃত পক্ষেই শিক্ষা অনুরাগী ও দল মতের উর্ধ্বে গিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করেন। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখক: অধ্যাপক (অর্থনীতি), সাবেক পরিচালক, বার্ড (কুমিল্লা), সাবেক ডিন (ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ) ও সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিট

বি.দ্র.- (এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। নিউজজি২৪ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

নিউজজি/এসডি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers