বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ , ১ মুহররম ১৪৪৮

শিক্ষা

বুটেক্সে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলনমেলা

বুটেক্স প্রতিনিধি ২৯ মে , ২০২৬, ১৩:৪৯:৩২

87
  • সংগৃহীত

বুটেক্স: ঈদুল আযহা মানেই ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এক পবিত্র উৎসব, যেখানে পরিবার-পরিজনের সাথে আনন্দ, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে মানবতার বার্তা। ঈদের ছুটিতে নগরজীবনের কোলাহল পেছনে ফেলে সকলেই যখন প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটাতে ব্যস্ত, তখন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন একদল নীরব কর্মী। নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ড্রাইভার, অফিস সহায়ক ও ইউটিলিটি শাখার কর্মীরা ঈদের দিনেও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন জরুরি সেবা সচল রাখতে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।

তাদের এই ত্যাগ ও দায়িত্ববোধকে সম্মান জানিয়ে এবারও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদুল আযহা আয়োজন করা হয় বিশেষ মধ্যাহ্ন ভোজের। বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। ঈদের দিন দুপুরে সবাই একসাথে খাবারে অংশ নিলে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় এক ভিন্নধর্মী পারিবারিক পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক রুহুল আমিন ঈদের দিনে ক্যাম্পাসে থাকা কর্মীদের জন্য এই আয়োজনকে “মহৎ উদ্যোগ” উল্লেখ করে বলেন, অনেক কর্মচারী আছেন যারা পরিবার ছাড়া ঢাকায় থাকেন, অনেকেই ব্যাচেলার। ঈদের দিনে আলাদা করে রান্না করা বা ভালোভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা তাদের জন্য সহজ নয়। স্যার যেভাবে তালিকা করে সবাইকে কুরবানির মাংস দিয়েছেন এবং দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, এটা আমাদের জন্য অন্যরকম অনুভূতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার মো. তালুকদারও আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত ঈদেও আয়োজন ছিল, এবারও হয়েছে। আমরা সবাই একসাথে খেয়েছি, খুব ভালো লাগছে। যারা ডিউটিতে থাকে, তাদের তো ঠিকমতো ঈদ করা হয় না। এই উদ্যোগটা তাদের জন্য অনেক আনন্দের।

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনরত গোলাম মোস্তফা বলেন, ঈদের সময় সবাই একসাথে ছুটিতে যেতে পারেন না। পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন উদ্যোগ তাদের মানসিকভাবে অনেক স্বস্তি দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা খুব খুশি হয়েছি। স্যার আমাদের কথা চিন্তা করে এই আয়োজন করেছেন। আমরা মনে করি, আমাদেরকেও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আয়োজক কমিটির প্রধান স্টেট অফিসার বাবুল আক্তার বলেন, উপাচার্য স্যার দায়িত্ব গ্রহণের পর টানা তৃতীয় বারের মতন ঈদুল আযহা উপলক্ষে এই বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হলো। ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীরা বিষয়টিকে খুব ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তাদের মুখের হাসি দেখলে নিজেরও ভালো লাগে। নিজের অনেক পরিশ্রম থাকলেও সবার আনন্দ দেখলে সেটা আর কষ্ট মনে হয় না।

ঈদ উপলক্ষে দেয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যারা পরিবার ছেড়ে ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, যারা বাড়ি যেতে পারেননি, তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করা এবং সবাইকে নিয়ে এক পরিবারের মতো ঈদ উদযাপন করতেই এই আয়োজন। তারা ছুটির দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা চাই, তারা যেন অনুভব করেন যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সবসময় তাদের পাশে আছে।

নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে ঈদের এই আয়োজন যেন দায়িত্ব আর মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবার থেকে দূরে থেকেও সহকর্মীদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাবার ভাগাভাগি করে নেওয়ার এই মুহূর্তগুলো কর্মীদের মাঝে এনে দিয়েছে স্বস্তি ও আপনত্বের অনুভূতি। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers