বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৭ সফর ১৪৪৮

শিক্ষা

ববি হলে সংঘর্ষ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

বরিশাল প্রতিনিধি ১৮ জুলাই , ২০২৬, ১৩:১৩:৩১

54
  • ছবি : নিউজজি

বরিশাল: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বিজয়-২৪ হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এবং উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনায় জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রূপাতলী এলাকার একটি মেসে আগের দিন ঘটে যাওয়া বিরোধের জের ধরেই হলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একই সাথে ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে রয়েছে স্পষ্ট ভিন্নতা। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৫ জুলাই) বিজয়-২৪ হলে সংঘর্ষের ঘটনার পর উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ইতোমধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাকিব তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে রূপাতলী এলাকার একটি মেসে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং শিবির নেতা হিসেবে পরিচিত ইনামুল হকের সাথে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভের বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে ইনামুল ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালান। পরে গভীর রাতে তাকে মেস থেকে বের করে দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীর দাবি, রূপাতলী এলাকার ২৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত ওই মেসটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছে ‘শিবির মেস’ নামে পরিচিত। তাদের ভাষ্য, অতীতেও সেখানে শিবিরের বিভিন্ন নেতাকর্মীর অবস্থান ও নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ জুলাই রাতের বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে পরদিন (১৫ জুলাই) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন উভয় পক্ষকে বিজয়-২৪ হলে আলোচনার জন্য ডাকেন।

কিন্তু আলোচনায় বসার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইনামুল হক অভিযোগ করেন, তিনি বিজয়-২৪ হলের টিভি রুমে যাওয়ার পর ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ ও সাকিবের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তিনি আরও দাবি করেন, অংকন নামে আরেক শিক্ষার্থীও হামলায় অংশ নেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আগের রাতের ঘটনাটি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতেই উভয় পক্ষকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি অন্য একটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন। এর মধ্যেই হলের বাইরে ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ইনামুলের ওপর হামলা চালান। পুরো ঘটনায় তার কোনো পরিকল্পনা বা সম্পৃক্ততা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

একইভাবে অভিযুক্ত অংকনও হামলার নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ নাকচ করে বলেন, তিনি সংঘর্ষ থামাতে এবং ইনামুলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মো. আরিফ উল ইসলাম বলেন, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আগের দিন মেসে যে ঘটনা ঘটেছিল, সেটিরই প্রতিক্রিয়া হিসেবে হলে এই সংঘর্ষ হয়েছে। প্রথমে ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী মেসে মারধরের শিকার হন। পরদিন তার জের ধরেই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ঘটনার পরপরই উভয় পক্ষের সাথে কথা বলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভাগীয় শিক্ষকদের বক্তব্যও নেয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে দুই পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে উভয় পক্ষই প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে সংঘটিত এই ঘটনাকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিড়ে বিভ্রান্তি দূর করতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের কোনো বিকল্প নেই। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers