বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিক্ষা

উত্তরপত্র বিতরণের পর শেকৃবিতে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত

শেকৃবি প্রতিনিধি ৮ আগস্ট , ২০২৬, ১৩:১৪:৪৭

80
  • ছবি : নিউজজি

শেকৃবি: শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র বিতরণের পর হঠাৎ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে। আবাসিক হলের ফিস্টের খাবার খেয়ে একদল শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গত ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা (এজিইসি) বিভাগের লেভেল-৩, সেমিস্টার-১ এর এজিইসি ৩৩৩ কোর্সের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার্থীরা হলে উপস্থিত হন। পরিদর্শকরাও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তরপত্র বিতরণ করেন। এমনকি পরীক্ষা শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ আসে। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

একাধিক পরীক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে জনপ্রতি ৬০ টাকা করে ফিস্টের আয়োজন করা হয়। ওই ফিস্টের খাবারের ডাল নিম্নমানের হওয়ায় রাত থেকেই কয়েকজন শিক্ষার্থী বমি ও পেটের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন বলে তারা দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢোকার পর উত্তরপত্রও হাতে দেয়া হয়েছিল। এরপর পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসাটা মেনে নেয়া কঠিন। এভাবে বারবার পরীক্ষাসূচি পরিবর্তন হলে একাডেমিক শৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন বলেন, পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী ফোন করে অসুস্থতার কথা জানান। সময় স্বল্পতা এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে উপাচার্যের পরামর্শে মানবিক কারণে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তবে খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন অপরাজিতা-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার। তিনি বলেন, তদারকির মধ্য দিয়েই মানসম্পন্ন খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং প্রশাসনও তা গ্রহণ করেছে। অসুস্থতার অভিযোগকে পরীক্ষা পেছানোর একটি কৌশল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও তথ্যের ভিন্নতা পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরে হল প্রভোস্টের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, তার কাছে খাবার নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ডিন পরীক্ষা বাতিল করার পরই বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। হাজারো শিক্ষার্থীর মধ্যে দু-একজনের ফুড পয়জনিং হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সাধারণত বড় কোনো অনুষ্ঠানের পরদিন পরীক্ষার তারিখ রাখা হয় না। ভুলবশতই হয়তো সেদিন পরীক্ষাটি রাখা হয়েছিল।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers