বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ , ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিক্ষা

নোবিপ্রবিতে বহিরাগতদের নিয়ে হামলা ও শোডাউন, কাঠগড়ায় ছাত্রদলের ২ নেতা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট , ২০২৬, ১১:৩০:২১

111
  • ছবি : নিউজজি

নোবিপ্রবি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পৃথক ঘটনায় বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ, হামলা ও শোডাউনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ২ নেতার বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলামকে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাফরাতুল ইসলাম নাবিলসহ কয়েকজন বহিরাগতকে সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের সাথে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।

পরপর দুই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপস্থিতি, দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে এনে হামলা কিংবা প্রকাশ্যে শোডাউনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার দুপুর একটার দিকে একদল বহিরাগতকে সাথে নিয়ে হাসিবুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। বহিরাগতদের এভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় বলে জানান তারা।

এদিকে, এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের সাথে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততায় হামলা ও শোডাউনের পৃথক অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সংঘর্ষের ফলে বিগত কিছুদিন ধরে ছাত্রদলের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সংস্কৃতি চলতেছে, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করতেছে। তাদের অভ্যন্তরীণ মারামারির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তারা ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করে, যেটার এখন পর্যন্ত কোনো বিচার করা হয় নাই। তাদের সংঘর্ষের জের ধরে প্রশাসন পকেট গেট বন্ধ করে দেয়, এতে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ করিয়েছে, যেটা ক্যাম্পাসের একাডেমিক এনভায়রনমেন্টের সাথে সাংঘর্ষিক। সোমবারও ক্লাস-পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সেক্রেটারি বহিরাগতদের নিয়ে হোন্ডা শোডাউন দেয়। এটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেখা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আমরা চাই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ থাকুক।

শিক্ষার্থীদের একাংশের ভাষ্য, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের এনে হামলা কিংবা দলীয় শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে শোডাউন-দুই ধরনের ঘটনাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের সাথে সাংঘর্ষিক। এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

সোমবার বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের ছাত্রদল বহিরাগত দ্বারা অ্যাটাক করে মারামারিতে আমাদের ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। তাদেরকে দেখতে এসেছে। এছাড়া এটা শোডাউন বা অন্য কিছু না।

অন্যদিকে, ১৮ আগস্টের ঘটনায় বহিরাগত এনে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন বলেন, আমরা কখনোই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত এনে পেশিশক্তির প্রদর্শন করিনি। আজকে যিনি বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

ক্যাম্পাসে বহিরাগত এনে শোডাউনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, আমরা সকালে তাকে বহিরাগত নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেছি। সাথে সাথে সে চলে গিয়েছিল। এরপর দুপুরের দিকে আবার তাকে বহিরাগতসহ শোডাউন দিতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা তাদের এ ধরনের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার জন্য বলেছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। তবে সোমবার হাসিবুল ইসলামকে বহিরাগতদের সাথে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers