বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ , ৩ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিক্ষা

শেকৃবিতে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ, আহত ২

শেকৃবি প্রতিনিধি ৯ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১৪:১৬:০১

117
  • ছবি : নিউজজি

শেকৃবি: শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির জেরে ২১ ও ২৩ ব্যাচের ২ শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- ২১ ব্যাচের অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের হোসাইন শরীফ এবং ২৩ ব্যাচের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের রাতুল হাসান রুম্মান।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এর আগে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় রাতুল হাসান রুম্মান ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হোসাইন শরীফকে ‘হাই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। এ সময় শরীফ তাকে ‘ব্রো’ বলার কারণ জানতে চান এবং তার নাম ও ব্যাচ জিজ্ঞাসা করেন। বিষয়টি নিয়ে ২ জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান রুম্মানের ভাষ্য, দুপুরে ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলে লিফটটি ধরতে বলেন। এতে শরীফ তার পরিচয় জানতে চান এবং তাকে লিফটে উঠে উপরে যেতে বাধা দেন। পরে রাতে শের-ই-বাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে ২১ ব্যাচের মারুফের উপস্থিতে লিফটের বিষয়টি নিয়ে আবার কথা হয়। একপর্যায়ে তার ব্যাচমেট সুজনসহ তাকে বকাবকি ও মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন রুম্মান। তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার মাথা ও কপাল ফেটে যায় বলে জানান।

২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হোসাইন শরীফ বলেন, দুপুরে জুনিয়র রাতুল হাসান রুম্মান বিজয় ২৪ হলের লিফটে আমার সাথে বেয়াদবি করেন। পরবর্তীতে রাতে শের-ই-বাংলা হলের ক্যান্টিনের সামনে রাতুল হাসান রুম্মানসহ ৫ জন আমার পথ আটকান। তারা আমাকে বলেন, দুপুরে তো আমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করেছিস, এখন তোর পরিচয় বল। এ কথা বলেই তারা আমার ওপর আঘাত শুরু করেন। আমি নিজেকে রক্ষা করতে গেলে আমার হাত লেগে রুম্মানের কপাল কেটে যায়।

তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরিফ কমপক্ষে ১৫ জনকে নিয়ে এসে আমার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান। এ সময় তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়ার, পুলিশে দেয়ার ও মামলা করার হুমকি দেন। এ সময় আমার ব্যাচমেট অ্যানিমেষ, মারুফ ও বায়োজিদ উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন সোর্স থেকে জানা যায়, শের-ই-বাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে শরীফ ও রুম্মানের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তার সাথে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীরও হাতাহাতি হয় বলে বিভিন্ন সোর্স জানান।

তবে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ বলেন, আমি শের-ই-বাংলা হলের সামনে ছিলাম। হলের ভেতর হৈচৈ শুনে সেখানে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সাথে তার সিনিয়রের কোনো একটি বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছে। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ ও উপস্থিত তার ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শের-ই-বাংলা হলের গেস্টরুমে বসতে চাই। এ সময় সেখানে উপস্থিত ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী অ্যানিমেশ রায় তার ব্যাচের অন্যদের বিষয়টি জানালে কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে আমাদের সাথে কথাকাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনায় আহত ২ শিক্ষার্থীকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও সেখানে কর্মরত এক চিকিৎসক জানান, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন। তাকে প্রয়োজনীয় ড্রেসিং করে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers