বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩২ আষাঢ় ১৪৩৩ , ৩০ মুহররম ১৪৪৮

বিনোদন

সুরকার ও পিয়ানোবাদক আবদুল্লাহ ইব্রাহিম আর নেই

নিউজজি ডেস্ক  জুন ১৬, ২০২৬, ১৮:৫৫:২২

105
  • সুরকার ও পিয়ানোবাদক আবদুল্লাহ ইব্রাহিম আর নেই

ঢাকা : দক্ষিণ আফ্রিকার খ্যাতনামা জ্যাজ সুরকার ও পিয়ানোবাদক আবদুল্লাহ ইব্রাহিম আর নেই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৭০টিরও বেশি অ্যালবাম রেকর্ড করা এই গুণী সংগীতশিল্পী মাঝে কিছু দিন অসুস্থ থাকার পর জার্মানিতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

সোমবার (১৫ জুন) তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়। আবদুল্লাহ ইব্রাহিমের সঙ্গী ড. মেরিনা উমারি লিখেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা এবং এর মানুষকে হৃদয়ে ধারণ করে আবদুল্লাহ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নিয়েছেন। তিনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, দেশের প্রতি তার ভালোবাসা কখনো ম্লান হয়নি।’

কেপটাউনে ‘অ্যাডলফ জোহানেস ব্র্যান্ড’নামে জন্ম নেয়া এই সংগীতশিল্পী এর আগে জানিয়েছিলেন, মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই তিনি সুর করা শুরু করেন। তবে পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে তার অভিষেক ঘটে ১৫ বছর বয়সে।

১৯৫০-এর দশকে স্থানীয় জ্যাজ অঙ্গনে ‘ডলার ব্র্যান্ড’নামে তিনি বেশ পরিচিত ও সমাদৃত হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে ‘দ্য জ্যাজ এপিসেলস’ব্যান্ডের সঙ্গে তিনি একটি অ্যালবাম রেকর্ড করেন। তাদের ‘জ্যাজ এপিসেল ভার্স ওয়ান’অ্যালবামটি ছিল কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান সংগীতশিল্পীদের দ্বারা রেকর্ডকৃত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য জ্যাজ এলপি।

তাদের সংগীত সরাসরি রাজনৈতিক না হলেও, তৎকালীন বর্ণবাদী সরকারের রোষানল থেকেও তারা রেহাই পাননি।

১৯৬০-এর দশকে ইব্রাহিম ইউরোপে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি আমেরিকান জ্যাজ কিংবদন্তি ডিউক এলিংটনের নজরে পড়েন তিনি। এলিংটন তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। পরবর্তীতে জ্যাজ ছন্দের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী সুরের মিশ্রণ ঘটিয়ে ইব্রাহিম এক অনন্য নিজস্ব ধারা তৈরি করেন।

১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া তার বিখ্যাত ট্র্যাক ‘ম্যানেনবার্গ’দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে বসবাস করলেও আবদুল্লাহ ইব্রাহিম কখনোই তার শিকড় ভোলেননি। সুযোগ পেলেই তিনি দেশে ফিরে গান গাইতেন। মাত্র তিন মাস আগেও তিনি কেপটাউন আন্তর্জাতিক জ্যাজ উৎসবে তার জীবনের শেষ লাইভ পারফরম্যান্স করেন।

সংগীতের পাশাপাশি ইব্রাহিম বেশ কিছু সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের কাজও করেছেন। এর মধ্যে ফরাসি নির্মাতা ক্লেয়ার ডেনিসের ‘নো ফিয়ার, নো ডাই’ এবং ‘চকোলেট’-এর মতো ড্রামা ফিল্ম উল্লেখযোগ্য।

সফল ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘জার্মান জাজ ট্রফি’এবং দক্ষিণ আফ্রিকান মিউজিক লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি।  

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers