বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

বিনোদন

‘ও সুন্দরী বলে কাঁদতে বসলে ছবিটাই হবে না’

নিউজজি ডেস্ক  জুলাই ১৩, ২০২৬, ১২:২৩:২৫

60
  • আনন্দবাজার

ঢাকা: মহিলারা একই কর্মক্ষেত্রে থাকলে নাকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দ্বিগুণ হয়। সুস্থ পরিবেশ সেখানে দূরঅস্ত। এমন ভাবনায় সহমত নন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও জয়া আহসান। বরং একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিপরীত অভিজ্ঞতার কথাই বললেন তাঁরা।

একই ছবিতে দুই নারী মানেই শুটিং সেটে বিবাদ এবং রেষারেষি। যুগের পর যুগ ধরে এই ভাবনা পোষণ করেছেন অনেকেই। মহিলারা একই কর্মক্ষেত্রে থাকলে নাকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দ্বিগুণ হয়। সুস্থ পরিবেশ সেখানে দূরঅস্ত। এমন ভাবনায় সহমত নন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও জয়া আহসান। বরং একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিপরীত অভিজ্ঞতার কথাই বললেন তাঁরা।

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁদের ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। পর্দায় চরিত্রের বিচারে তাঁদের তথাকথিত প্রতিদ্বন্দ্বীর আসনে বসালেও, সেখানে তাঁদের সখ্যই কাহিনির অন্যতম অঙ্গ। আবার পর্দার নেপথ্যেও পরস্পরের প্রতি ভালবাসার কথা জানালেন দুই অভিনেত্রী। জয়ার কথায়, “দু’টি ছবিতে চূর্ণীদির সঙ্গে কাজ করেছি এবং আন্তরিকতাই পেয়েছি। দুই নারীর রেষারেষি— এগুলো আজকের যুগে শুধুই ‘মিথ’। এখন কোনও ছবিই পুরুষকেন্দ্রিক বা নারীকেন্দ্রিক নয়। সেগুলি চরিত্রকেন্দ্রিক। একই ছবিতে একাধিক চরিত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনও অসুবিধা হয় না।”

জয়ার মন্তব্যের সঙ্গে সহমত চূর্ণী। তিনিও মনে করেন, সবটাই চরিত্রের প্রয়োজনে। ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ ছবির সূত্র ধরেই তিনি বলেন, “ছবিতে এক জন নারীর প্রাক্তন স্বামী বিয়ে করেছে। যাকে বিয়ে করেছে, সে অসম্ভব সুন্দরী। চরিত্রে এটাই তো রয়েছে। এ বার জয়াকে সুন্দরী লাগছে বলে যদি আমি কাঁদতে বসি, তা হলে তো ছবিটাই শেষ পর্যন্ত দাঁড়াবে না! ছবিতে চরিত্রটি যেমন, অভিনেতাকে তো তেমন ভাবেই ফুটিয়ে তুলতে হবে।”

কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘বিসর্জন’-এ অভিনয় করেছিলেন জয়া। তখন থেকেই চূর্ণীর সঙ্গে জয়ার পরিচয়। ক্রমশ বন্ধুত্ব সেখান থেকেই। পর্দায় জয়া অভিনীত ‘পদ্মা’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতেও ভূমিকা রয়েছে চূর্ণীর। জয়ার কথায়, “আমার লুক কেমন হবে, কী শাড়ি পরব, সবটা চূর্ণীদি দেখেছিলেন। ছবির সম্পাদনার সময়েও ছিলেন।” তাই দু’জনের মধ্যে কোনও রেষারেষি আসার প্রশ্নই নেই, এমনই মনে করেন দুই অভিনেত্রী। ‘বিসর্জন’-এর স্মৃতি হাতড়েই চূর্ণী বলেন, “একটা চরিত্রকে দাঁড় করাতে গেলে তার প্রতি ভিতর থেকে ভালবাসা তৈরি হয়। ওকে সাজানোর অভিজ্ঞতা ছিল ঠাকুরের মূর্তি তৈরি করার মতো। ওকে কোন রং মানাবে, কেমন টিপ পরবে, টিপটা কী ভাবে ঘাঁটবে, সবটা দেখতে হয়েছিল। তখন থেকেই কিন্তু ওর প্রতি আমার ভালবাসা।”

এর পরে ‘অর্ধাঙ্গিনী’-তে প্রথম একসঙ্গে অভিনয় চূর্ণী ও জয়ার। কিন্তু সেখানে রেষারেষি কোনও জায়গা করতে পারেনি। তবে পর্দায় দুই নারীর একই স্বামী। এক জন প্রাক্তন আর এক জন বর্তমান। তথাকথিত এমন দুই নারীর মধ্যে যেমন সম্পর্ক আশা করা যায়, এই ছবিতে তেমন দেখানো হয়নি। সেখানেও উল্টোটাই দেখানো হয়েছে। এ-ও কি সম্ভব? চূর্ণীর স্পষ্ট বক্তব্য, “প্রাক্তন স্ত্রী ও বর্তমান স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক— এটা কিন্তু কারও অবাস্তব মনে হয়নি। বরং বেশিরভাগই মনে করেছেন, এটাও হতে পারে। অনেকে অনুপ্রাণিতও হয়েছেন।” জয়াও মনে করেন, স্বামীর প্রাক্তন অথবা বর্তমান স্ত্রী মানেই তিনি শত্রু, এই ভাবনা অনেকটাই সমাজের চাপিয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, “শত্রুতার মনোভাব আসবেই বা কেন! এমন তো আসলে হয় না। সমাজ এ ভাবে আমাদের ভাবতে শেখায়।”

২০২৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘অর্ধাঙ্গিনী’। চূর্ণী ও জয়ার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কৌশিক সেন। সেই ছবিরই দ্বিতীয় ভাগ ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ মুক্তি পেয়েছে ১০ জুলাই। সূত্র: আনন্দবাজার।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers