রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিনোদন

সালমান শাহর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজজি ডেস্ক  সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:২৭:৩৮

162
  • সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় এক নাম সালমান শাহ। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও ফ্যাশন দিয়ে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন অসংখ্য দর্শকের হৃদয়। ঢালিউডে নতুন ধারার সূচনা করা এই জনপ্রিয় অভিনেতা একসময় হয়ে উঠেছিলেন তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন আইকন এবং অমর নায়ক।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও দর্শকের ভালোবাসা আজও অটুট। বরং সময়ের সঙ্গে তার জনপ্রিয়তা আরও গভীর হয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রের নস্টালজিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তার সিনেমাগুলো আজও দর্শকদের ফিরিয়ে নেয় নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিকতা, তারুণ্যের আবেগ ও এক স্বর্ণালি চলচ্চিত্রযুগের স্মৃতিতে।

আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এই স্বপ্নের নায়ককে হারানোর ২৯ বছর।

মাত্র ২৫ বছর বয়সেই ১৯৯৬ সালের আজকের এই দিনে অসংখ্য ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সালমান শাহ। তার মৃত্যুবার্ষিকী এলেই যেন বিশেষ শহরের দাড়িয়া পাড়ার নানার বাসাতে তার ভক্তদের আসা যাওয়াটা একটু একটু করে বাড়তেই থাকে। কারণ এই বাসাতেই অর্থাৎ এই ‘সালমান শাহ হাউজ’-এ কেটেছে সালমানের ছোটবেলা।

দূরন্ত সময়টা তিনি সেখানেই কাটিয়েছেন। জানালেন তার মামা কুমকুম। বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাস সৃষ্টিকারী নায়ক সালমান শাহ। দেখতে দেখতে তার মৃত্যুর ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। মৃত্যুর এত বছর পরও তিনি এখনো আকাশচুম্বী জনপ্রিয়, এখনো দর্শকের প্রিয় নায়ক তিনিই। এখনো টিভি পর্দায় তার সিনেমা প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন। এখনো তার অভিনীত সিনেমার গান টিভিতে প্রচার হলে দর্শক তা এড়িয়ে যেতে পারেন না।

এমনও দেখা গেছে পাশাপাশি দুটি চ্যানেলের একটিতে নতুন কোনো সিনেমা প্রচার হচ্ছে, আবার অন্যটিতে সালমান শাহ’র সিনেমা। তখন দর্শক যেন সালমান শাহ’র সিনেমা দেখার প্রতিই বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেন। আবার শুধুমাত্র সালমান শাহ’র সিনেমার ক্ষেত্রেই এমন দেখা গেছে যে, সিনেমা প্রচারের সময় নারী পুরুষ দর্শক শুধু সালমান শাহ’র পারফর্ম্যান্সই বেশি উপভোগ করেন। তার সঙ্গে কে আছেন তা কখনোই জরুরি কোনো বিষয় নয় দর্শকের কাছে।

মৃত্যুর বহু বছর পরও অভিনয় ও ফ্যাশনে নিজস্ব ছাপ রেখে দর্শকের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। সিলেট শহরের শেখঘাটে ছিল সালমানের দাদার বাড়ি, আর দারিয়া পাড়ায় ছিল নানার বাড়ি। বর্তমানে সেই বাড়িটি ‘সালমান শাহ হাউজ’ নামে পরিচিত।

সালমান শাহর অভিনয়ে আসার পেছনে তার নানারও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল। তার নানা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ অভিনয় করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতিও সালমানের আগ্রহ ছিল। স্কুলজীবনে বন্ধুদের মধ্যে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে পাস করেন।

চলচ্চিত্রে পা রাখার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সালমান শাহ। পরবর্তীতে অভিনয়জগতে তার আগমন ঘটে এবং অল্প সময়েই তিনি দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

যদিও বা সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পান সালমান শাহ। কিন্তু তার আগেই তিনি নাটকে অভিনয় করেন। মঈনুল আহসান সাবেরের লেখা ধারাবাহিক ‘পাথর সময়’-এ একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সালমান শাহ’র অভিনয় জীবন শুরু হয়। ওই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে তৌকীর আহমেদ অভিনয় করলেও সালমান শাহ’র চরিত্রটি ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে আরো বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেও দারুণ প্রশংসিত হয়েছিলেন সালমান। সিনেমার পাশাপাশি নাটকেও তার উপস্থিতি দর্শকের মধ্যে ভীষণ সাড়া ফেলেছিল।

যদিও বা মৌসুমীর সঙ্গে সিনেমাতে সালমানের অভিষেক হয়। পরবর্তীতে মৌসুমীর সঙ্গে আরো দুটি সিনেমা ‘স্নেহ’, ‘অন্তরে অন্তরে’তে অভিনয় করলেও আর কোনো সিনেমাতে তাদের দেখা যায়নি। শাবনূরের সঙ্গেই বেশি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন সালমান শাহ। যে জুটিকে এখনো সিনেমার অন্যতম সেরা জুটি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

সালমান শাহের সঙ্গে জুটি হয়ে আরো অভিনয় করেছিলেন শাবনাজ, শাহনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, বৃষ্টি, সাবরিনা ও কাঞ্চি।

সালমান শাহর মৃত্যুর পর বাংলা চলচ্চিত্রে অনেক জনপ্রিয় নায়কের আগমন ঘটেছে। তবে অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও ফ্যাশনের অনন্য সমন্বয়ে যে জনপ্রিয়তা তিনি অর্জন করেছিলেন, এত বছর পরও তা কেউ ছাপিয়ে যেতে পারেননি। চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও পরিচালকদের অনেকেই মনে করেন, সালমান শাহ ছিলেন ধূমকেতুর মতো—স্বল্প সময়ে আবির্ভূত হয়ে দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন, আবার আকস্মিকভাবেই হারিয়ে গেছেন।

তার মৃত্যুর এত বছর পরও ভক্তদের ভালোবাসায় বেঁচে থাকার বিষয়টি বাংলা চলচ্চিত্রে বিরল এক দৃষ্টান্ত। সালমানের মৃত্যুর সময় যারা শিশু বা কিশোর ছিলেন, তাদের শৈশবের স্মৃতি ও গল্পের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এই নায়ক। নতুন প্রজন্মের অনেকের মনেও তাই কখনো কখনো প্রশ্ন জাগে—যদি একবার ফিরে আসতেন সালমান শাহ!

কিন্তু বাস্তবতা নির্মম। মৃত্যুই চূড়ান্ত সত্য। যে মানুষ চলে যায়, সে আর ফিরে আসে না। তবে সালমান শাহ ফিরে না এলেও তার অভিনয়, স্টাইল ও অসংখ্য স্মৃতি আজও তাকে ভক্তদের হৃদয়ে জীবন্ত করে রেখেছে।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers