শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ , ২৭ রজব ১৪৪৭

ফিচার

কিশোরবেলায় ওরা মুক্তিযুদ্ধে

নিউজজি ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৫, ১৩:৫৩:৪২

128
  • কিশোরবেলায় ওরা মুক্তিযুদ্ধে

ঢাকা: বড়রাই যুদ্ধ করে এদেশের লাল-সবুজ পতাকা অর্জন করেছিল, তা নয়। অনেক শিশু-কিশোরও একাত্তরের রনাঙ্গণে জীবন বাজি রেখেছিল এবং বিভিন্নভাবে মুক্তিবাহিনীর সাহায্য করেছে। এদেশের স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে প্রাণ দিয়েছিল অনেক শিশু-কিশোর। ছোট-বড় সকল মুক্তিযোদ্ধাদের-ই অবদান এই মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়।

তোমরা শুনে আনন্দিত হবে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে প্রায় ৪ লাখই ছিল শিশু-কিশোর। আর যেসব নারীর সম্ভ্রম হারাতে হয়েছিল তাদের মধ্যে অর্ধেকই ছিল কিশোরী। তোমাদের মতো শিশু-কিশোররা খুবই আনন্দের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।

শিশু-কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান যেকোনও বড় অর্জন একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। আর স্বাধীনতা অর্জন, এতো এক বিরাট কাজ। যেকোনও সুসজ্জিত অস্ত্রসস্ত্র, ট্যাংক, কামান, যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধ বিমানসহ কত কী ছিল তাদের। অতবড় শক্তিশালী একটি বাহিনীর অহংকার আর দাম্ভিকতা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া অতটা সহজ ছিল না। সকলে মিলে বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ মার্চের নির্দেশনা অনুযায়ী । তিনি বলেছেন—‘তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে’। হ্যা, সব শ্রেণির সাথে তোমাদের মতো শিশু-কিশোরদেরও অসামান্য অবদান ছিল এই মুক্তিযুদ্ধে। শিশু-কিশোররা কেউ কেউ ইনফর্মার হিসেবে কাজ করেছে।

অর্থাৎ শত্রুসেনারা কোন গ্রামে বা অঞ্চলে ঢুকে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের জানিয়ে দিয়েছে, যাতে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পজিশন ঠিক করে ওদের সাথে যুদ্ধ করতে পারে অথবা দূরে সরে যেতে পারে। যুদ্ধ করতে গিয়ে অনেকে খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা করতে না পারায় দিনের পর দিন না খেয়ে উপোস থাকতে হয়েছে। সে অবস্থায় মায়ের কাছ থেকে বোনের কাছ থেকে খাবার নিয়ে এসব শিশু-কিশোরেরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাইয়েছে।

রাতের আঁধারে অথবা প্রয়োজনীয় যে কোনও মূহুর্তে এক ক্যাম্পের খবর অন্য ক্যাম্পে পৌঁছে দিয়েছে। বিভিন্ন সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্তচর হয়ে পাকিস্তানি ক্যাম্পে ঢুকে সংবাদ বা কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য মুক্তিযোদ্ধাদের জানিয়েছে। এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প থেকে গোলাবারুদের তত্ত্বাবধায়ন করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে থেকে গোলাবারুদ ও অস্ত্র সরবরাহ করা যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিজের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে বেড়ানোসহ মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যান্য ছোটখাট কাজ করেছে শিশু-কিশোররা।

যুদ্ধশেষে স্বাধীনতার আনন্দ মিছিলে ও উৎসবেও ছিল শিশু-কিশোরদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ। ১৯৭১ এ তোমাদের মতো শিশুরা বুকে গ্রেনেড বেঁধে পাকিস্তানি ট্যাংকের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে শত্রুদের ভুল পথের (রাস্তার) নির্দেশনা দিয়েছে। প্রস্ততপক্ষে কোনও কাজই ছোট নয়। তা প্রমাণ করে দিয়েছে এ দেশের কিশোর মুক্তিযোদ্ধারাই।

নিউজজি/পিএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন