রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফিচার

আজ দেশীয় সঙ্গীতের বরপুত্রের জন্মদিন

নিউজজি ডেস্ক  অক্টোবর ১১, ২০২৫, ১৫:৫৭:০৫

397
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা:বাংলা সঙ্গীতে ক্ষণজন্মা যে’কজন গুণী শিল্পী ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হ্যাপি আখন্দ। তিনিই বাংলাদেশের সঙ্গীতের প্রথম বরপুত্র। তার সঙ্গীতায়োজনে বাংলা গান পেয়েছিল নতুন মাত্রা। আর তিনি হয়ে গেছেন অমর।

আজ দেশীয় সঙ্গীতের এই বরপুত্রের জন্মদিন। ১৯৬৩ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকার পাতলা খান লেনে জন্মগ্রহণ করেন হ্যাপি আখন্দ। বড় ভাই লাকী আখন্দ সঙ্গীতের মানুষ। তাই ছোটবেলা থেকেই গানের ভুবনে পদচারণা হ্যাপির। তবে গাওয়ার চেয়ে গান সৃষ্টিতেই তৃপ্তি পেতেন তিনি।

মাত্র ১০ বছর বয়সে গিটার বাজানো শিখে যান হ্যাপি আখন্দ। পাশাপাশি আয়ত্ব করেন তবলাও। এরপর ভাই লাকী আখন্দের সঙ্গে বিভিন্ন কনসার্টে গিয়ে তবলা বাজাতেন।

হ্যাপি আখন্দ আলোচনায় আসেন ১৯৭৫ সালে। সে বছর এসএম হেদায়েতের লেখা ও লাকী আখন্দের সুর করা ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ গানটির সঙ্গীতায়োজন করেন হ্যাপি। গানটি তিনি বিটিভিতে পরিবেশন করেন। সেটি ছড়িয়ে যায় তরুণদের মাঝে।

এরপর হ্যাপি আখন্দের কণ্ঠে আরও কিছু গান পায় জনপ্রিয়তা। যার মধ্যে রয়েছে- ‘কে বাঁশি বাজায় রে’, ‘খোলা আকাশের মতো তোমাকে হৃদয় দিয়েছি’, ‘নীল নীল শাড়ি পরে’, ‘পাহাড়ি ঝরনা’, ‘এই পৃথিবীর বুকে আসে যায়’, ‘স্বাধীনতা তোমায় নিয়ে গান তো লিখেছি’ ইত্যাদি।

সঙ্গীতায়োজনে হ্যাপি আখন্দ দেখিয়েছেন বিস্ময়কর যাদু। তার সঙ্গীত আয়োজনে ফেরদৌস ওয়াহিদের গাওয়া ‘এমন একটা মা দে না’, প্রয়াত ফিরোজ সাঁইয়ের গাওয়া ‘ইশকুলখুইলাছে রে মাওলা’ গানগুলো ওই সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। কালের সীমানা পেরিয়ে এগুলো এখনও জনপ্রিয়।

হ্যাপি আখন্দের সঙ্গীত পরিচালনার প্রশংসা করেছিলেন উপমহাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীতবোদ্ধারা। তাদের মধ্যে আছেন আর ডি বর্মণ, মান্না দে, আব্বাস উদ্দীন ও সমর দাসের মতো সঙ্গীতজ্ঞরা।

হ্যাপি আখন্দকে নিয়ে বড় ভাই প্রয়াত লাকী আখন্দ বলেছিলেন, হ্যাপির সঙ্গীত প্রতিভা ছিল আক্ষরিক অর্থেই বিস্ময়কর। সঙ্গীতের প্রতি তার একাগ্র নিষ্ঠা আর ভালোবাসার পাশাপাশি স্রষ্টা প্রদত্ত কিছু সহজাত গুণাবলি ও দক্ষতার কারণে আমরা যারা একই সময়ে সঙ্গীত চর্চা করতাম, তাদের সবার মধ্যে ও ছিল সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল।

নিজের সুরেলা কণ্ঠের জাদুতে হ্যাপি শ্রোতাদের হৃদয়ের সব বন্ধ জানালা খুলে দিতে পারত। গিটার, পিয়ানো, তবলা যা-ই বাজাত, এক অদ্ভুত ভালোলাগার জন্ম দিতে পারত তার সঙ্গীত। পৃথিবীর নানা ধাঁচের সঙ্গীত শুনে শুনে ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীদের সান্নিধ্যে অর্জিত সঙ্গীতের নানা জ্ঞান ও দর্শন অকাতরে বিলিয়ে দিত নিজের বন্ধুপ্রতিম সহশিল্পী আর ছাত্রদের মধ্যে। সেই সঙ্গে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ও নতুনত্ব আনতে হ্যাপি তার উদ্ভাবনী শক্তিকে সবসময় কাজে লাগাত।

১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান হ্যাপি আখন্দ। জন্মদিনে নিউজজি পরিবার থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল।

নিউজজি/হাআ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers