সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ , ৩ জিলকদ ১৪৪৭

ফিচার

আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি দ্বিধাচ্ছন্ন?

মাঈনুদ্দীন দুলাল এপ্রিল ৯, ২০২৬, ১৭:৩৬:৩১

139
  • আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি দ্বিধাচ্ছন্ন?

শেষপর্যন্ত আমেরিকা-ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বিরতি কি কার্যকর হবে? কোনো শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হবে? এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ ইসরায়েলের মনোভাবকে ইতিবাচক মনে হচ্ছে না। আলোচনায় তাদের না রাখায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েল। এছাড়াও এ ব্যাপারে তাদের সদিচ্ছা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন ইসরায়েলের মনোভাব যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। যুদ্ধ বিরতির মধ্যে লেবাননে ভয়াবহ হামলায় তাদের এই মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

তবে এরই মধ্যে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে আলোচকদের একটি দল পাকিস্তান রওয়ানা দিয়েছেন। অন্যদিকে আমেরিকা জানিয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স তাদের দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পেরুনোর আগেই বুধবার ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৮২ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। জবাবে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননের ওপর হামলা অব্যহত রাখে, তাহলে প্রতিপক্ষকে ‘পস্তাতে হয়এমন জবাব’ দেবে তারা।

এমন অবস্থায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ খবরে জানা যাচ্ছে, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় তারা উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে।

ইরানসমর্থিত এই গোষ্ঠীটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, লেবাননের বিরুদ্ধে ‘ইসরায়েলি-আমেরিকান আগ্রাসন’বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে।

বুধবার মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। আর হামলা বন্ধ না হলে পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছে ইরান। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ইরান-সংক্রান্ত চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে না।

গত ছয় সপ্তাহে লেবাননে প্রায় এক হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৩০ জন। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। এদিকে, এ হামলাকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হেজবুল্লাহর ওপর ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আবার লড়াই শুরু করবে।

তিনি শপথ করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আমিকাই চিকলি একটি রেডিও স্টেশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গতকাল বলেছেন, যুদ্ধ বিরতি একটি ভুল পদক্ষেপ। ইরানি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। তিনি ঐতিহাসিক উদাহরণ দিয়ে বলেন, জাপান সাম্রাজ্য বা নাৎসি জার্মানির মতো শক্তিগুলোকে যে ভাবে নতজানু করা হয়েছিল। ইরানের ক্ষেত্রেও তাই করা উচিত। তার এই বক্তব্যে ইসরায়েলের মনোভাব পরিষ্কার বোঝা যায়।

ইসরায়েল মনে করে মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বিস্তারে সবচেয়ে বড় বাধা ইরান। আমেরিকারও একই মনোভাব। হয়ত আমেরিকা তার অভ্যন্তরীন, মিত্র ও প্রতিপক্ষের চাপে সম্মানজনক কোনো সমাধানে আসতে চায়।

তবে এই শান্তি চুক্তি করা বা তার কার্যকরে বড় ফ্যাক্টর ইসরায়েল। তাকে সামলানো প্রায় অসম্ভব। তাই যুদ্ধ বিরতি বা শান্তি চুক্তি কতটা টেকসই  হবে সেই দ্বিধা থাকছেই।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers