শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফিচার

অশেষ ঋণী করেছেন আমাদের

মাঈনুদ্দীন দুলাল এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১৬:৫৪:২১

537
  • ছবি : ইন্টারনেট

‘কিনে দে রেশমী চুঁড়ি,

নইলে যাব বাপের বাড়ি...’

আশা ভোঁসলের গাওয়া মেলোডি মিশ্রিত, ঝনঝনে, কিন্নর কণ্ঠের এই গানটি শোনেননি এমন বাঙালি শ্রোতা কি আছে? পূজা মণ্ডপের মাইকে, কোনো উৎসবে, পিকনিকের প্যান্ডেলে অবধারিত এই গান। আরও কিছু বাংলা গান আাশা কে দীর্ঘ দিন বাঁচিয়ে রাখবে। যেমন- ‘যেতে দাও আমায় ডেকো না’, ‘মহুয়া জমেছে আজ মৌ গো’, ‘ময়না বল তুমি’, নাচ ময়ুরী নাচ রে’। এমন সব আরও অনেক বাংলা গান।

মারাঠি এই শিল্পী তার সহোদরা লতা মুঙ্গেশকরের পর মহিলা কন্ঠে হিন্দি চলচ্চিত্রের গানে ছিলেন প্রভাবশালী ও জনপ্রিয়।

আজ ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃস্বাস ছেড়েছেন এই কিংবদন্তী সঙ্গীত শিল্পী। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বলা যায় একটি দীর্ঘ জীবন তিনি যাপন করেছেন। শেষ দিকে বার্ধক্য জনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

আশা ভোঁসলের পারিবারিক নাম ছিল আশা মঙ্গেশকর। ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ তার জন্ম।  তিনি মূলত হিন্দি চলচ্চিত্রে নেপথ্য সঙ্গীত গাওয়ার জন্য বিখ্যাত। তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৪৩ সাল থেকে আরম্ভ করে তিনি আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য গান গেয়েছেন। তিনি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৮টি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা-সহ নয়টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং দুটি গ্র্যামি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেছেন। তিনি ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মবিভূষণ পদকে ভূষিত করে।এছাড়া তিনি ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ,ও ২০২১ সালে মহারাষ্ট্র ভূষণ পদকে ভূষিত হন।

আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ নাটকীয়তা ভরা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে তিনি নিজের ব্যক্তিগত সচিব ৩১ বছর বয়েসি গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন । শ্বশুরবাড়ির সাথে সম্পর্ক অবনতি হলে তিন সন্তানসহ ১৯৬০ সালে সেই সম্পর্ক ত্যাগ করেন।

১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক আর ডি বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আর ডি বর্মনের পিতা শচীন দেব বর্মণের প্রবল আপত্তি থাকলেও তাদের দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণয়ে রূপ পায়। ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তারা একসাথেই ছিলেন। জীবনের শেষ বছরগুলোতে তার নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন এই সংগীত সম্রাজ্ঞীর ছায়াসঙ্গী। ১১ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ডের জন্য তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী।

হাজার হাজার শ্রোতা প্রিয় গান আছে আাশা'র। এর মধ্যে দু’চারটি যেমন- ফিলহাল সিনেমার’ ফিলহাল জি লেন দে’, বাজিগর ছবির 'কিতাবেইন বহুত সে', ইয়াদিন ছবির ‘যব দিল মিলে’। আরো কত কত....

একটি সৃজনশীল, সংগ্রামী, আনন্দদায়ী জীবন কাটিয়েছেন আশা ভোঁসলে। তাঁর জন্যে আমাদের অতল শ্রদ্ধা।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers