মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ , ৪ জিলকদ ১৪৪৭

ফিচার

মুছে যাক গ্লানি, মুছে যাক ক্লেদ

মাঈনুদ্দীন দুলাল এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:০৩:৫৪

153
  • মুছে যাক গ্লানি, মুছে যাক ক্লেদ

শুভ নববর্ষ। বাংলা ১৪৩৩ সন।

রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করে বলি,

“এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।

তাপসনিঃশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥

যাক পুরাতন স্মৃতি,  যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,

অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক॥

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,

অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।"

অনেক ক্লেদ জমেছে। আমাদের সমাজে পুরনো আবর্জনার সাথে সম্প্রতি মব, অশ্রাব্য গালি-গালাজ, অসহিষ্ণুতা এবং প্রতিহিংসার বিষাক্ত বাষ্প ছড়িয়েছে। সুস্থ ও স্বাভাবিক বেঁচে থাকা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

এই নববর্ষে কায়মন প্রার্থনা এইসব অনাকাংখিত ক্লেদ আমাদের জীবন থেকে অপসারিত হোক। বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ বাংলা পঞ্জিকার প্রথম দিন, যার ইতিহাস মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের সময়(১৫৫৬-১৬০৫) থেকে শুরু। কৃষকদের কাছ থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফসল কাটার পর কর বা খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে তিনি হিজরি চান্দ্রবর্ষের পরিবর্তে সৌরবর্ষের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ক্যালেন্ডার চালু করেন।যা প্রথমে ফসলি সন ও পরে ‘বঙ্গাব্দ’ নামে পরিচিতি পায়।

১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণ করলেও ১৫৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা সন প্রবর্তন করা হয় । পূর্বে কৃষকরা ফসল কাটার পর খাজনা দিত। নতুন সনের প্রথম দিন বা পহেলা বৈশাখে ব্যবসায়ীরা আগের বছরের হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খুলতেন, যা “হালখাতা” নামে পরিচিত ।

রাজধানীতে অন্যতম আয়োজন থাকছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রতি বছরের মতো এবারও ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য করা হয়েছে, ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। রমনা বটমূলে ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও সকালে নববর্ষ বরণে সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সিআরবি চত্বর, ডিসি হিল, শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা। এছাড়াও দেশের প্রায় প্রতি উপজেলায় থাকবে নানা আয়োজন।

আমাদের ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান আছে। তবে নববর্ষ সার্বজনীন। সকলেই ধর্ম-বর্ন-অঞ্চলের ভেদাভেদ ভুলে এই উৎসবটি পালন করেন। বর্ণিল পোষাক, সাজসজ্জা আর সুস্বাদু ও ব্যতিক্রমী খাবারে দিনটি উদযাপন করেন। আর ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন ও মেলায় ঘোরাঘোরিতো থাকছেই।

র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ জানিয়েছেন, দেশব্যাপী ১৫ ব্যাটালিয়ান সদস্য মোতায়েন থাকবে। তাদের গোয়েন্দা, সাইবার টিম ও মাঠ পর্যায়ে এই সদস্যরা কাজ করবে। তিনি আশা করছেন শান্তপূর্ণভাবেই নববর্ষ উদযাপিত হবে।

আমরাও আশা করি বাঙালির প্রাণের উৎসবটি নির্বিঘ্নে পালিত হোক। কোটি প্রাণের স্পন্দনে, নব স্বপ্নে জাগুক বাংলাদেশ।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers