মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ , ৪ জিলকদ ১৪৪৭

ফিচার

উপসাগরীয় যুদ্ধ : খেলছে ইসরায়েল

মাঈনুদ্দীন দুলাল এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১৯:২৫:৩৯

195
  • উপসাগরীয় যুদ্ধ : খেলছে ইসরায়েল

ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধে বড় খেলোয়াড় ইসরায়েল। যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ ও শান্তি আলোচনার গন্তব্য নিয়ে কলকাঠি নাড়ছে ইসরায়েল।

ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার আলোচনা চলাকালে মার্কিন প্রতিনিধি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে নেতানিয়াহুর একটি ফোনকলে আলোচনা ভেস্তে যায়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এমনই অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর ফোনকলের পরই সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ফোন কলে কি কথা হয়েছে ভ্যান্স ও নেতানিহুর মধ্যে তা বিস্তারিত বলেননি আরাঘচি।

কয়েকদিন আগে আমেরিকার সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরী বলেছেন, নেতানিয়াহু ইরানে আক্রমণ চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট বুশ, ওবামা ও বাইডেনকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই তিন প্রেসিডেন্ট রাজি হননি। কেরী নিজেও এমন কয়েকটি আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন,অবশেষে ট্রাম্পকে দিয়ে নেতানিয়াহু ইরান আক্রমণ করাতে পারলেন।

শান্তি আলোচনায় ইরানের দেয়া ১০টি শর্তের মধ্যে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। ইসরায়েল এই শর্ত কোনও ভাবেই মানবে না। কারণ ইরান যদি পারমাণবিক শক্তি অর্জন করে তবে ইসরায়েল মনে করে তার অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে তার ক্ষমতা ও প্রভাব বলয় ভেঙে পড়বে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের তুরুপের তাস তার পারমাণবিক সক্ষমতা। এই ট্রাম কার্ড এই অঞ্চলে অন্য কারো কাছে থাকুক এটা সে চাইবে না। তার জন্যে এই অঞ্চলে বড় থ্রেট ইরান। তাই ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙ্গে দেয়া তার লক্ষ্য।

ইসরায়েল এই অঞ্চলে বড় মানচিত্র নিয়ে বিশ্ব পরাশক্তি হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। লক্ষ্য করা যায়, ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলি সামরিক শাসনের অধীনে।এখানে অনেকগুলো অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর ইসরায়েল ১৯৮০ সালে এটি নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে।গাজার সমুদ্র উপকূল ও আকাশসীমা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় জাতিসংঘ একে ইসরায়েলের অধিকৃত এলাকা মনে করে। ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করা হয় এবং পরে ইসরায়েল এটি অন্তর্ভুক্ত করে। গত দুই বছর ধরে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ইসরায়েল একরকম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে সেখানে। গত কয়েকদিনে ইসরায়েল লেবাননের প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় ঢুকে গেছে। বোঝাই যায় ইসরায়েল তার মানচিত্র সম্প্রসারিত করার মাস্টার প্ল্যান নিয়ে ধীরে ধীরে এগুচ্ছে।

এদিকে সর্বশেষ ইরানের সামুদ্রিক বন্দর অবরোধের পর, কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। “ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য”। বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ এ ধরনের পদক্ষেপ কখনো মেনে নেবে না। বুধবার তেহরানে জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান এই কথা বলেন। তিনি আরও বলেছেন, তেহরান “যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা নয়”, বরং সব সময়ই “গঠনমূলক আলোচনা”র পক্ষে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এমন একটি সময় এসব কথা বলেছেন যার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহেই পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে তেহরান এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন উপসাগরীয় যুদ্ধ ক্রমশ অন্ধকার টানেলে ঢুকছে। ইসরায়েল এই যুদ্ধ টেনে নিতে চায় তার লক্ষ্য পূরণ হওয়া পর্যন্ত।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers