মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৫ সফর ১৪৪৮

ফিচার

৬ নবজাতকের অপমৃত্যু, মানুষ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছে

মাঈনুদ্দীন দুলাল জুন ১০, ২০২৬, ১৯:৪৪:১৩

256
  • ৬ নবজাতকের অপমৃত্যু, মানুষ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছে

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সারা দেশে সুনামির ঢেউ তুলেছিল। যা খোদ সরকার প্রধানকেও শোকাহত, বিব্রত ও আতঙ্কিত করেছিল। প্রধানমন্ত্রী ঢেউ সামলাতে রামিসার বাসায় গিয়ে পরিবারকে সান্তনা দেন। হস্তক্ষেপ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা নেন। নাহলে রামিসার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের আরজে কেলেঙ্কারিতে রুপ নিতে পারত। নতুন সরকারের জন্য বিপদ ঘনিয়ে আসত।

সম্প্রতি রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা ও গাফেলতিতে মারা গেল ৬ নব জাতক। এদের বয়স ১ থেকে ৩ দিন মাত্র।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ত্রুটি, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির বিষয় উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ছিল অপ্রতুল।

এছাড়া ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়। নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত হাসপাতালটির মালিক বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গ্রেফতার করা হয়নি। হেফাজতে নেয়া হয়নি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।স্বজনদের দায়ের করা মামলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পশাপাশি সরকারি তদন্তে তাদের অবহেলা প্রমাণিত হলেও এ বিষয়ে এখনও আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারে অগ্রগতি হয়নি।

গত ২৮ মে তারিখে নিহত এক শিশুর পিতা বাদী হয়ে রমনা থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পস্ট বলা হয়েছে, ওয়ার্ডটি চারদিক থেকে আবদ্ধ ছিল এবং বাইরে থেকে আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ ছিল না। দুটি কক্ষ পেরিয়ে ঐ ওয়ার্ডে ঢুকতে হয়। ভেতরের পরিবেশ ছিল গুমোট এবং এসি ছিল অনেকটা অকার্যকর।

প্রায় ৯০০ বর্গফুটের ওয়ার্ডে ৫ টনের এসি যথেষ্ট ন। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস না থাকায় এবং এসি রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকায় নবজাতকদের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয় বলে মতামত দেয় তদন্ত কমিটি।

অস্ত্রোপচারে জন্ম নেয়া নবজাতকদের প্রসব-পরবর্তী বিশেষ চিকিৎসা বা ইনিকিউবেটরে স্থানান্তর করা হয়েনি। এছাড়া, নবজাতকদের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কোনো বিশেষ পরামর্শ ছিল  না।

আমারা জানতে পেরেছি, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মালিক আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তার ছোট ভাই শেখ বশিরউদ্দিন ড. ইউনুস সরকারের বানিজ্য উপদেষ্টা ছিলেন। অর্থ ও প্রতিপত্তিতে তারা ক্ষমতাধর।

এখানেই প্রশ্ন আসছে ক্ষমতার জোরেই কি মালিক ও কর্তৃপক্ষ এখনো আইনের খড়গ এড়িয়ে আছেন? তারা তাদের উকিল ও লবিস্টদের দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রলোভন দিচ্ছেন। অর্থ কি জীবন কিনত পারে? অর্থ সিস্টেম ভাঙতে পারে, কিন্তু সিস্টেম তৈরি করতে পারে না। সিস্টেম তৈরি ও রক্ষা করে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের চেয়ে ক্ষমতাবান কেউ নয়। কারণ এ রাষ্ট্রটি ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ।

দাবী উঠেছে এই নিষ্ঠুর ও ক্ষমার অযোগ্য ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করুন। যেমনটি করেছেন রামিসার ক্ষেত্রে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে আইন ও শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে পড়বে। সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

লেখক: সাংবাদিক।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers