বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৮ সফর ১৪৪৮

ফিচার

নেলসন ম্যান্ডেলা দিবস: বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এক নেতার সংগ্রাম

নিউজজি ডেস্ক জুলাই ১৮, ২০২৬, ১২:৫৮:১৬

99
  • নেলসন ম্যান্ডেলা

ঢাকা: ১৮ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক নেলসন ম্যান্ডেলা দিবস’। সাম্য, মানবাধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে সারাজীবন লড়াই করেছেন ম্যান্ডেলা, তার নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাতেই আজ সেই আদর্শ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থা, উচ্চ বেকারত্ব এবং বাড়তে থাকা সামাজিক বৈষম্যে সংকটে থাকা দেশটিতে এবারের ম্যান্ডেলা দিবস ঘিরে দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। মানবিক মূল্যবোধের পরিবর্তে অভিবাসীবিরোধী প্রচারণা ও বিভাজনের রাজনীতি দিনটির মূল চেতনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ম্যান্ডেলা দিবসে ‘অভিবাসী তাড়ানোর ঘোষণা

প্রতি বছর ম্যান্ডেলার দীর্ঘ ৬৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের সম্মানে এই দিনে সাধারণ মানুষ অন্তত ৬৭ মিনিট সামাজিক সেবামূলক কাজে ব্যয় করেন। কিন্তু এবার দক্ষিণ আফ্রিকার উগ্র অভিবাসী-বিরোধী ও উগ্রপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট জোট ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ এই সেবা দিবসটিকে বর্ণবাদী ও বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা ঘোষণা করেছে, এই ৬৭ মিনিটে তারা কোনো জনসেবা করবে না, বরং ম্যান্ডেলার নিজ প্রদেশ ইস্টার্ন কেপের বিভিন্ন শহর ও কলকারখানায় তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেবে। তাদের দাবি, সরকার সীমান্ত রক্ষা করতে ও নাগরিকদের চাকরি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি অভিবাসীরা তাদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।

নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশনের তীব্র নিন্দা

উগ্রপন্থীদের এমন কর্মকাণ্ডের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশন’। ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এমবংগিসেনি বুথেলেজি আল জাজিরাকে বলেন, “জনসেবার দিনকে বিভাজনের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। ম্যান্ডেলার নাম ব্যবহার করে অভিবাসীদের ওপর চড়াও হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “দেশ এখন এক কঠিন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর এই সুযোগে কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী সরকারের ব্যর্থতার দায় সাধারণ অভিবাসীদের ওপর চাপাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার জন্য কোনো বিদেশি অভিবাসী দায়ী হতে পারে না।”

ম্যান্ডেলার নামে এই বর্বরতা চলতে পারে না

নেলসন ম্যান্ডেলার স্মৃতিধন্য দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (ANC) প্রবীণ নেতা স্নুকি জিকালকালা উগ্রপন্থীদের এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ম্যান্ডেলার নামে অন্তত এই বর্বরতা চালানো যাবে না। আমরা আফ্রিকান ভাইদের জানোয়ারের মতো দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারি না। ওরাও মানুষ।” তবে একই সাথে তিনি স্বীকার করেন যে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা এবং ভোটারদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে না পারার দায় এএনসি দলেরও রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভরাডুবির পর ম্যান্ডেলার ঐতিহ্যবাহী দল এএনসি এখন বহুদলীয় জোটের মাধ্যমে কোনোমতে দেশ শাসন করছে।

ম্যান্ডেলার সংগ্রামী রূপ মুছে ফেলার চেষ্টা

আহমেদ কাথরাদা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নীশান বোল্টন আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলার মূল রাজনৈতিক ও বিপ্লবী আদর্শকে সুকৌশলে মুছে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ম্যান্ডেলা যে একজন আপসহীন মুক্তিসংগ্রামী ছিলেন, সেই পরিচয় আজ কর্পোরেট সমাজসেবার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। এখন যে যার স্বার্থ অনুযায়ী ম্যান্ডেলার নামের অপব্যবহার করছে।”

চলতি বছরের ম্যান্ডেলা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো, ‘দারিদ্র্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই এখনও আমাদের হাতেই’। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার রাজপথে আজ দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে নিজ দেশের নাগরিক বনাম আফ্রিকান অভিবাসীদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত। সূত্র: আল জাজিরা

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers