শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ , ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

ফিচার

রিয়াজ: বাণিজ্যিক এবং বিকল্প, দুই ধারাতেই সফল নায়ক

কামরুল ইসলাম অক্টোবর ২৬, ২০২০, ১৬:১৬:২২

  • রিয়াজ: বাণিজ্যিক এবং বিকল্প, দুই ধারাতেই সফল নায়ক

বাণিজ্যিক সিনেমা কিংবা বিকল্প ধারার গল্পনির্ভর সিনেমা; দুই ধারাতেই সাফল্য কুড়িয়েছেন তিনি। দেশের চলচ্চিত্রে অল্প কয়েকজন নায়কই এমন সাফল্য পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি।

বলছি রিয়াজের কথা। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করে তিনি দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন। আবার কুড়িয়েছেন সমালোচকদের প্রশংসাও। আজ এই সফল অভিনেতার জন্মদিন। শুভ জন্মদিন রিয়াজ।

চিত্রনায়ক রিয়াজের জন্ম ১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুরের কমলাপুর মহল্লায়। তার আসল নাম রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক। ছোট বেলায় তার স্বপ্ন ছিল স্থপতি হবেন। কিন্তু পরিবারের ইচ্ছায় নাম লেখান বিমানবাহিনীতে। বৈমানিক হিসেবে তিনি একটি জেট ফাইটারে মোট ৩০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বিমানবাহিনী থেকে।

বিমানবাহিনী থেকে চাকরি হারানোর পর রিয়াজ ঢাকায় চলে আসেন। এখানে তার চাচাতো বোন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতার কাছে থাকতেন তিনি। ববিতার হাত ধরেই রিয়াজ সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন।

 

 

১৯৯৪ সালের ঘটনা। চাচাতো বোন ববিতার সঙ্গে রিয়াজ ঘুরতে যান বিএফডিসিতে। সেখানে তৎকালীন সুপারস্টার চিত্রনায়ক জসিমের সঙ্গে দেখা হয় তার। রিয়াজের সুদর্শন চেহারা আর ফিটনেস দেখে জসিম তাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর ববিতার উৎসাহে রিয়াজ সিনেমায় নাম লেখান।

রিয়াজের প্রথম সিনেমা মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। সিনেমার নাম ছিল ‘বাংলার নায়ক’। সিনেমাটি ব্যবসাসফল হয়েছিল। তবে এর মূল চরিত্রে রিয়াজ ছিলেন না। এরপরের বছর খ্যাতিমান নির্মাতা দিলীপ বিশ্বাসের ‘অজান্তে’ এবং মোহাম্মদ হোসেনের ‘প্রিয়জন’ সিনেমায় অভিনয় করেন রিয়াজ। উল্লেখ্য, ‘প্রিয়জন’ সিনেমায় অমর নায়ক সালমান শাহর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন রিয়াজ।

চলচ্চিত্রে নাম লেখানোর দুই বছর পর কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পান রিয়াজ। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ সিনেমাটি তাকে তারকাখ্যাতি এনে দেয়। দেশজুড়ে তার জনপ্রিয়তা বিস্তৃত হয়। এই সিনেমার ‘পড়েনা চোখের পলক’ তুমুল শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছিল। গানটি এখনো সমানভাবে মানুষের মনে জায়গা দখল করে আছে। এই গান এবং সিনেমার মাধ্যমে রিয়াজ গ্রাম-বাংলার তরুণীদের স্বপ্নের নায়কে পরিণত হন।

এরপর রিয়াজের হাতে সাফল্য এসে ধরা দিয়েছে আপন মনে। একের পর এক দর্শকনন্দিত ও ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ‘নারীর মন’, ‘বিয়ের ফুল’, ‘এই মন চায় যে’, ‘হৃদয়ের আয়না’, ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘স্বপ্নের বাসর’, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, ‘হৃদয়ের বন্ধন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘কাজের মেয়ে’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’, ‘সাবধান’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘খবরদার’, ‘লাল দরিয়া’, ‘মিলন হবে কতদিনে’, ‘শাস্তি’, ‘কি যাদু করিলা’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘পাগল তোর জন্য’ ও 'কৃষ্ণপক্ষ’ ইত্যাদি।

অন্যসব নায়কের মতো রিয়াজ নিজেকে কেবল বাণিজ্যিক সিনেমার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে রাখেননি। তিনি অভিনয় করেছেন বিকল্প ধারার সিনেমাতেও। আর সেখানেও তার অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছে দারুণভাবে। ‘হাজার বছর ধরে’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘মোল্লা বাড়ির বউ’, ‘খেলাঘর’, ‘বিদ্রহী পদ্মা’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’ ইত্যাদি সিনেমাগুলো ঢালিউডের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

 

 

ঢাকাই সিনেমায় অন্যতম জনপ্রিয় দুই জুটির নায়ক রিয়াজ। তার শাবনূর এবং পূর্ণিমার জুটি দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটিকে দেশের প্রায় সব শ্রেণিক দর্শকরা পছন্দ করেন। এখনো এই জুটির প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা করেন সবাই।

সিনেমার নায়ক হলেও রিয়াজ মূলত অভিনেতা হিসেবে নিজেকে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। তাই ছোট পর্দায়ও তিনি অসংখ্য কাজ করেছেন। ৭০-টির বেশি নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদের নির্মিত বেশ কিছু নাটকে তার অভিনয় এখনো দর্শক সমাদৃত। রিয়াজ অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘হাবলঙ্গের বাজারে’, ‘উড়ে যায় বক পক্ষী’, ‘রহস্য’, ‘যমুনার জল দেখতে কালো’, ‘এই বর্ষায়’, ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’, ‘আমরা তিন জন’, ‘তুলিতে আঁকা স্বপ্ন’, ‘নয়া রিকশা’, ‘পারমিতার দিনরাত্রী’, ‘চোর’, ‘আমাদের নুরুলহুদা’, ‘আমি আজ ভেজাবো চোখ সমুদ্র জলে’, ‘এক বছর পরের সন্ধ্যা’, ‘ছায়াবৃক্ষের রাজকন্যা’, ‘বাজি’, ‘গল্পটা গল্প ছিল না’, ‘লাঠিপাগল’, ‘তুমি আছো তুমি নাই’ ইত্যাদি।

উপস্থাপক হিসেবেও দর্শকদের বিনোদিত করেছেন রিয়াজ। তিনি ২০০৭ সালের মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, ২০০৯-২০১০ সালে ‘নির্মাণের তারকা’ এবং ২০১০-২০১২ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের উপস্থাপনা করেছেন।

দক্ষ অভিনয়ের সুবাদে রিয়াজ জিতেছেন বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। ‘দুই দুয়ারী’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ এবং ‘কি যাদু করিলা’ সিনেমাগুলোর জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন রিয়াজ। এছাড়া আরও দু’বার পেয়েছেন মনোনয়ন। তিনি সাতবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার জিতেছেন।

ক্যারিয়ারের মতো ব্যক্তিগত জীবনেও রিয়াজ একজন সফল ব্যক্তি। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তিনি সংসার করছেন। ২০০৭ সালে মডেল মুশফিকা তিনাকে বিয়ে করেন রিয়াজ। ২০১৫ সালে তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

 

 

নিউজজি/কেআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        









copyright © 2020 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers